জেলা
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন: নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে রবিবার সকাল থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল গোটা এলাকা। পুকুর থেকে নির্যাতিতার নিথর দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এক মূল অভিযুক্তের। পরিস্থিতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে যে কূলপি রোড স্তব্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই খবর ছড়াতেই কূলপি রোডের ওপর মৃতদেহ রেখে পথ অবরোধ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভ চলাকালীন এক অভিযুক্তকে স্থানীয়রা ধরে ফেলে এবং প্রকাশ্য রাস্তায় গণপিটুনি দেওয়া শুরু করে। গণধোলাইয়ের চোটে ঘটনাস্থলেই ওই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন আগে সক্রিয় হলে এই ঘটনা ঘটত না। ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার প্রতিবাদে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে রেললাইন অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে রবিবার ছুটির দিনে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বিস্তীর্ণ অংশে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।
বারুইপুরের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির খবর পৌঁছায় নবান্নে। এরপরই সরাসরি ময়দানে নামেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজে নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি নির্যাতিতার পরিবারকে আগামী মঙ্গলবার কলকাতার ভবানীভবনে (পুলিশ সদর দফতর) আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, সেখানে বসে পরিবারের সমস্ত দাবি-দাওয়া খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষপের পর এবং কড়া আশ্বাসের ভিত্তিতে বিকেল নাগাদ রেল ও পথ অবরোধ তুলে নেয় জনতা। এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

