জেলা
ভগিরথপুরে ভৈরব নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগেও প্রশাসন নীরব, রাস্তা সারাল স্থানীয়রা
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদঃ কচুরিপানার জঞ্জাল আর খরস্রোতে ভেঙেছে ভগিরথপুর কালু দেয়ার ভৈরব নদীর পারাপারের একমাত্র পথ। বন্ধ পায়ে হাঁটা, বন্ধ যান চলাচল। প্রশাসনের দেখা নেই, শেষমেশ হাল ধরলেন কালু দেয়ার ক্লাবের সদস্যরা।
ঠিক কী ঘটেছে?
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীর বুকে কচুরিপানা জমে ফরাসের পাশ দিয়ে তীব্র স্রোত তৈরি হয়েছে। স্রোতের ধাক্কায় দুই পাড়ের বালি-মাটি সরে গিয়ে বড় গর্ত। ভুক্তভোগী স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, রোগী, নিত্যযাত্রী, কৃষক — সকলেই হয়রান। বিকল্প পথ না থাকায় বহু মানুষ কয়েক কিমি ঘুরপথে যেতে বাধ্য।ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতি বা ভগিরথপুর পঞ্চায়েত প্রধান — এখনও কোনও উদ্যোগ নেই। রাজনৈতিক মহলও চুপ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,“ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা, ভোট পেরোলেই সব বন্ধ। মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে নদীতে নামেন কালু দেয়ার ক্লাবের সদস্যরা। টানা কয়েক ঘণ্টায় কচুরিপানা সরিয়ে, ভাঙা অংশে মাটি ফেলে অস্থায়ীভাবে রাস্তা চালু করেন।
ক্লাব সম্পাদকের বক্তব্য, 'মানুষের কষ্ট দেখে চুপ থাকতে পারিনি। প্রশাসন না এগোলে আমাদেরই করতে হবে'। প্রবীণ বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া এই যে ছেলেগুলো না থাকলে ঘরবন্দি হয়ে যেতাম। ওদের জন্যই আমরা বেরোতে পারলাম।
প্রশাসনের জবাব কী?
ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ভগিরথপুর পঞ্চায়েত প্রধানের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বর্ষার আগে স্থায়ী মেরামত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। আপাতত ক্লাবের তৈরি অস্থায়ী পথেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব ভুক্তভোগীরা।

