জেলা
দুর্গাপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার বান্ধবীসহ তিন
প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। নিজের এক বান্ধবীর বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হলো ওই কিশোরীকে। অভিযোগ, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে তিন যুবকের হাতে তুলে দেয় তার বান্ধবী। এই নারকীয় ঘটনায় পুলিশ নির্যাতিতার বান্ধবীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত দুই যুবকের নাম রাজ মল্লিক ও শেখ আজাহারউদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই বান্ধবী নির্যাতিতা নাবালিকাকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে কৌশলে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করে দেওয়া হয়। জ্ঞান হারানোর পর রাজ মল্লিক, শেখ আজাহারউদ্দিন এবং আর এক যুবকের হাতে তাকে সঁপে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা বুদবুদ থানা এলাকার বাসিন্দা। শনিবার তারই এক বান্ধবী তাকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর একটি চারচাকা গাড়িতে নিয়ে গিয়ে ওই নাবালিকাকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়। মদের সঙ্গে নেশার ওষুধ বা রাসায়নিক মেশানো ছিল। যার জেরে ওই নাবালিকা বেহুঁশ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার সংলগ্ন একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তারপর ওই নাবালিকার ওপর গণধর্ষণ চালানো হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে নির্যাতিতা কিশোরী আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও সে চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে।
এই নক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার (সিপি) প্রণব কুমার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত বান্ধবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং গণধর্ষণের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কিনা এবং মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা জানতে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

