সুটকেস খুলতেই কাটা টুকরো! আট বছর পর দুর্গাপুরের শিল্পা হত্যায় দোষী সেই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: লিফটের সামনে ঠায় পড়েছিল একটি পরিত্যক্ত ট্রলি সুটকেস। চারপাশ ম-ম করছে পচা দুর্গন্ধে। সন্দেহ হওয়ায় চেইন খুলতেই ছিটকে এসেছিলেন অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা। ভিতরে দড়ি দিয়ে হাত-পা বাঁধা, নগ্ন, বিকৃত এক তরুণীর লাশ। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর তথা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল শিল্পা অগ্রবাল খুনের সেই হাড়হিম করা ঘটনা। দীর্ঘ আট বছর পর, সোমবার সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত, এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তত্কালীন ম্যানেজার রাজীব কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করল দুর্গাপুর মহকুমা আদালত।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার মেজিয়া শাখায় কর্মরত ওই তরুণীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ম্যানেজার রাজীবের। ঘটনার রাতে রাজীবের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে বেনাচিতির রূপালী অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে শিল্পাকে ডেকে পাঠায় রাজীব। সেখানে মদ্যপানের পর দু’জনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে বচসা চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ, শিল্পা ঘুমিয়ে পড়লে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে এবং পরে মাথায় ভারী ফ্রাইং প্যান দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করে রাজীব।
তদন্তকারীরা জানান, খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি প্রথমে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ট্রলি সুটকেসে দেহটি পুরে অন্যত্র পাচারের ছক কষে রাজীব। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ধরা পড়ে যায় সে।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের তত্পরতায় গ্রেপ্তার হয় রাজীব। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক রাজীবকে ভারতীয় দণ্ডবিধির খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
সরকারি আইনজীবীর আশা, অপরাধের এই নৃশংসতা বিচার করে আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ সাজা দেবে।

