দামোদরের গ্রাসে গলসির সাড়ে ৪০০ বছরের প্রাচীন রামেশ্বর মন্দির
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: সেই সুদূর অতীত থেকেই পূর্ব বর্ধমানের গলসির সীমাসিমি এলাকায় জাঁকজমকভাবে পূজিত হয়ে আসছেন রামচন্দ্র। কিন্তু সাড়ে চারশো বছরেরও প্রাচীন সেই ঐতিহাসিক রামেশ্বর মন্দিরই এখন নদীগর্ভে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে। মন্দিরের একাংশ ইতিমধ্যেই দামোদরের দিকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, প্রশাসনের সদিচ্ছা না থাকলে হয়তো আর দু’-এক বছরের মধ্যেই নদীগর্ভে চিরতরে তলিয়ে যাবে এই প্রাচীন ঐতিহ্য।
তিনটি প্রবেশদ্বার এবং দেওয়ালে পুরানো সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত এই মন্দিরে আজও নিয়ম মেনে নিত্যপুজো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ সরকার জানান, প্রতি বছর চৈত্র মাসে গাজনের সময় মন্দির চত্বর উৎসবে জমজমাট হয়ে ওঠে। কিন্তু এই আনন্দ আর ক’বছর স্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রুখতে গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে মন্দিরের পাশে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রকৃতির নিয়মে তা টেকেনি।
এই পরিস্থিতির জন্য এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন দেদার বালি তোলাকে। তাঁদের অভিযোগ, দামোদর নদ থেকে বেপরোয়াভাবে বালি তোলার ফলেই নদের গতিপথ বদলে গিয়েছে। রাজ্যের এক প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে একটি নির্দিষ্ট সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালি তুলেছে। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটি বাঁচানোর জন্য কোনও পক্ষই ন্যূনতম উদ্যোগ নেয়নি।
যদিও গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি দ্রুত গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। তবে জেলার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শুধু গলসি নয়, পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্তেই এমন অজস্র প্রাচীন মন্দির সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। এতদিন এগুলি নিয়ে কোনও সরকারই বিশেষ ভাবেনি। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের আশা, বিজেপির আমলে এই সমস্ত প্রাচীন দেবালয়গুলি নতুনভাবে সংস্কার করা হবে এবং এই ঐতিহাসিক রাম মন্দিরেরও ভোল বদলে যাবে। কিন্তু ততদিনে মন্দিরটি টিকে থাকবে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

