জেলা
হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতে রাতের অন্ধকারে ইস্তফা প্রধান, উপপ্রধানের
প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বালুরঘাট: বুধবার সন্ধ্যায় হিলি ব্লকের বিডিওর কাছে আচমকাই ইস্তফা দিলেন ১ নম্বর হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ দাস এবং উপপ্রধান উমা খটিক। এদিন রাতে সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে অত্যন্ত চুপিসারে ব্লক অফিসে গিয়ে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে যান তাঁরা। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রধান ও উপপ্রধানের এই জোড়া পদত্যাগের ফলে হিলি ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড কার্যত ভেঙে গেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্দরে শাসকদলের অন্দরেই টানাপোড়েন চলছিল। দলের একাংশের সঙ্গে প্রধান ও উপপ্রধানের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে খবর। তবে বুধবার রাতে এভাবে হুট করে দু'জনে একসঙ্গে ইস্তফা দেবেন, তা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি। প্রধান বিশ্বজিৎ দাস ও উপপ্রধান উমা খটিকের ইস্তফার কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি অবশ্য এই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের বলেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় এখন হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিডিও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন অনুযায়ী পদত্যাগপত্র খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হস্তক্ষোপ করছে বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে শাসকদলকে এখন দ্রুত নতুন রণকৌশল তৈরি করতে হবে।

