কবজি ডুবিয়ে ভুরিভোজ, বিড়ি খেয়ে বাসন মেজে চম্পট চোর!
নিজস্ব প্রতিনিধি: চুরি করতে ঢুকে সোনা-দানা বা টাকা-পয়সার দিকে হাত না বাড়িয়ে, মনের সুখে মাছ-মাংস, দই-কলা দিয়ে জমিয়ে ভুরিভোজ সারল চোর। এখানেই শেষ নয়, খাওয়া শেষে তৃপ্তি করে বিড়িতে টান দিয়ে হোটেলের সমস্ত নোংরা বাসনপত্র মেজে পরিষ্কার করে রেখে চম্পট দিল সে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের নাগর এলাকায় ঘটেছে এই অদ্ভুত ও অভিনব চুরির ঘটনা। বুধবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগর এলাকার ওই হোটেলটির মালিক প্রতিদিনের মতোই রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। বুধবার সকালে তিনি হোটেল খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তাঁর। চোরটি রান্নাঘরে ঢুকে হাঁড়িতে থাকা মাছ, মাংসের পদ সাবাড় করে। এরপর ডেজার্ট হিসেবে সাবাড় করে দোকানে থাকা দই ও কলা। ভরপেট খাওয়ার পর চোর বাবাজির দরকার ছিল একটু আয়েশের। তাই দোকানে থাকা বিড়ি জ্বালিয়ে আয়েশ করে ধূমপানও করে সে। চুরির ইতিহাসে যা সাধারণত দেখা যায় না, খাওয়া শেষে নিজের ব্যবহৃত এবং হোটেলের অন্য নোংরা বাসনপত্রগুলো পরম যত্নে মেজে সাফ করে রেখে যায় ওই চোর।
সকালে হোটেলের এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। নগদ টাকা বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া না গেলেও, চোরের এমন "ভদ্র" ও অদ্ভুত আচরণ দেখে তাজ্জব বনে গেছেন হোটেল মালিক। চোরের এই কীর্তি নিয়ে বর্তমানে রায়গঞ্জের নাগর এলাকায় একদিকে যেমন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

