বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

কাটমানি ফেরত দিলেন তৃণমূলের উপপ্রধান, শোরগোল বীরভূমে

প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
কাটমানি ফেরত দিলেন তৃণমূলের উপপ্রধান, শোরগোল বীরভূমে
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কাটমানি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় কম হয়নি। এবার সেই কাটমানির টাকা গ্রামবাসীদের হাতজোড় করে ফেরত দিয়ে নজির গড়লেন বীরভূমের এক পঞ্চায়েত উপপ্রধান। শনিবার বীরভূমের ময়ূরেশ্বর-২ ব্লকের দাসপলসা গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরনগরী গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্য সভায় ৪২ জন উপভোক্তাকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ফেরত দেন স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান শ্যামল বায়েন।

অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে বাংলা আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে এলাকার বহু গরিব মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা তোলা হয়েছিল। উপভোক্তা পিছু ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। টাকা না দিলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না বলেও ভয় দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। টাকা ফেরত পেয়ে বীরনগরী গ্রামের এক দরিদ্র চাষি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার টাকা ঢোকার আগেই উপপ্রধানের লোকেরা ২৭ হাজার টাকা কেটে নিয়েছিল। টাকা না দিলে ঘর বাতিল করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।"
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই জেলা জুড়ে কাটমানি বিরোধী হাওয়া তৈরি হচ্ছিল। দলনেত্রীর কড়া বার্তার পর শেষমেশ চাপের মুখে পড়ে প্রকাশ্যেই টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্ত উপপ্রধান। শনিবার গ্রামের একটি মন্দিরের সামনে গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই টাকা নেওয়া উপভোক্তাদের নাম ধরে ধরে মোট ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গুনে ফেরত দেন শ্যামলবাবু। টাকা ফেরত দিলেও অবশ্য কাটমানি নেওয়ার দায় সরাসরি নিজের ঘাড়ে নিতে চাননি তিনি। তাঁর দাবি, দলের কিছু নিচুতলার কর্মী ও দালালেরা তাঁর নাম করে এই টাকা তুলেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি নিজের পকেট থেকে এই টাকা মেটালেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের ফলের পর থেকেই জেলাজুড়ে তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল বিরোধীরা। ঘরের টাকা নিয়ে এই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই বাধ্য হয়ে পঞ্চায়েত কর্তারা টাকা ফেরাচ্ছেন। টাকা ফেরত পেয়ে খুশি গ্রামবাসীরা হলেও, দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবিতে অনড় তাঁরা।