জেলা
রান্নাঘরে ৩৩টি কেউটের বাচ্চা ও ৫০টি ডিম! কোলাঘাটে সাপের আতঙ্কে তটস্থ পরিবার
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোলাঘাট: বর্ষার মরশুমে গ্রামবাংলায় সাপখোপের উপদ্রব নতুন কিছু নয়। কিন্তু আস্ত পাকা বাড়ির রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে যদি একের পর এক বিষধর সাপের বাচ্চা বের হতে থাকে, তবে আতঙ্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমনই এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের বৃন্দাবনচক গ্রাম। সেখানকার একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হল ৩৩টি কেউটে সাপের বাচ্চা এবং ৫০টি ডিমের খোলস। বন দফতর সাপগুলি উদ্ধার করে নিয়ে গেলেও, আসল 'মা' সাপের খোঁজ না মেলায় চরম আতঙ্কে ঘরছাড়া হওয়ার জোগাড় ওই পরিবারের।
বৃন্দাবনচক গ্রামের বাসিন্দা নিতাই বেরার পরিবারে এখন শুধুই ত্রাস। নিতাইবাবু জানান, গত শনিবার ভোররাতে তাঁর মা রান্নাঘরে একটি বড় পূর্ণবয়স্ক সাপ ঢুকে পড়তে দেখেন। সেটিকে সাধারণ দাঁড়াশ সাপ ভেবে তখন কেউই তেমন আমল দেননি। কিন্তু আসল বিপদ টের পাওয়া যায় সোমবার দুপুর থেকে। রান্নাঘরের ভিতর থেকে একটানা তীব্র ফোঁস ফোঁস আওয়াজ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। সন্দেহ দানা বাঁধতেই তাঁরা বুঝতে পারেন, ভেতরে কোনও বড় বিষধর সাপ লুকিয়ে রয়েছে।
আর দেরি না করে পরিবারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি পাঁশকুড়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসে খবর দেওয়া হয়। সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনকর্মী প্রলয় ঘোষ। রান্নাঘরের মেঝের সিমেন্টের প্রলেপের একটি ফাটলে টর্চের আলো ফেলতেই প্রথমে একটি সাপের বাচ্চা নজরে আসে। এরপর শুরু হয় মেঝে খোঁড়ার কাজ। একে একে সেখান থেকে উদ্ধার হতে থাকে একের পর এক কেউটের বাচ্চা ও ডিম। বন দফতরের কর্মীরা সবকটি সাপ নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছেন। তবে মূল পূর্ণবয়স্ক কেউটে সাপটির সন্ধান এখনও মেলেনি। ফলে বিষাক্ত 'মা' সাপের কামড়ের ভয়ে নিতাইবাবুর পরিবার এখন বাড়ির একতলা পুরোপুরি ছেড়ে দোতলায় আশ্রয় নিয়েছেন। রান্না করাও বন্ধ রয়েছে ওই ঘরে।

