কুনকি হাতির হানায় মৃত্যু রেল কর্মীর
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি পরীক্ষার দিনই ঘটে গেল এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রেললাইনে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (NFR) কর্তৃপক্ষ 'ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম' (IDS) নামক একটি প্রশংসনীয় প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের রাজাভাতখাওয়া বনাঞ্চলে সেই প্রযুক্তির মহড়া ও পরিদর্শনের সময়ই কুনকি হাতির আক্রমণে প্রাণ হারালেন প্রযুক্তি সংস্থা 'বিটকম'-এর এক তরুণ কর্মী, সন্দীপ চৌধুরি।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ডুয়ার্সের রেললাইনে বন্যহাতির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি চলছিল। বৃহস্পতিবার রাজাভাতখাওয়া বনাঞ্চল সংলগ্ন রেল ট্র্যাকে এই সিস্টেমেরই পরীক্ষা ও পরিদর্শনের কাজ চলছিল। সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবেই সেখানে উপস্থিত ছিল 'জোনাকি' নামে একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুনকি হাতি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিদর্শন চলাকালীন আচমকা একটি ট্রেনের হুইসেল বা চাকার শব্দে আতঙ্কিত ও দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে অবোধ হাতিটি। তীব্র মানসিক অস্থিরতা থেকে জোনাকি আচমকাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তের বিশৃঙ্খলায় কর্তব্যরত তরুণ কর্মী সন্দীপ চৌধুরি হাতিটির সামনে পড়ে যান। কুনকি হাতির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারাত্মক জখম হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বন্যপ্রাণী ও রেলের সুরক্ষায় যে মহৎ উদ্দেশ্যে এই আধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চলছিল, তার মাঝেই এমন একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বন্যপশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। রেল কর্তৃপক্ষ এবং বন দফতর যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

