জেলা
ডিম হামলার মুখে মহুয়া, মেজাজ হারিয়ে বিজেপিকে গালিগালাজ
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ফের সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মেজাজ হারালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, কাদা ও পাথর ছোড়ার ঘটনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মেজাজ হারিয়ে বিজেপিকে একের পর এক গালিগালাজ করতে থাকেন তৃণমূলের এই মমতাপন্থী সাংসদ। মহুয়ার এই মেজাজ হারানোর একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার কালীগঞ্জে দলীয় একটি কর্মসূচিতে গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন মহুয়া মৈত্র। আচমকাই একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, কাদা, বেগুন ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কয়েকটি ডিম সরাসরি মহুয়ার গায়ে এসে লাগে এবং তাঁর শাড়ি ভিজে কাদা হয়ে যায়। এই অতর্কিত হামলায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৃণমূল সাংসদ তড়িঘড়ি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে দীর্ঘক্ষণ কার্যত আটকে থাকতে হয় তাঁকে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে পুলিশি নিরাপত্তায় বিধায়কের বাড়ি থেকে বের হন মহুয়া। সেই সময় বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকরা কালীগঞ্জের এই বিক্ষোভ ও হামলা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। আর তাতেই দপ করে জ্বলে ওঠেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। গায়ে ডিম-কাদা লাগার চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার বশে ক্যামেরার সামনেই তিনি মেজাজ হারান। এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে ক্যামেরার সামনেই একের পর এক চরম শব্দ ও গালিগালাজ প্রয়োগ করতে থাকেন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় মহুয়া মৈত্রের জনপ্রিয়তা দেখেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই নোংরা হামলা চালিয়েছে। বিধায়কের বাড়িতে আটকে রেখে সাংসদের প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও শাসক শিবিরের অভিযোগ। অন্যদিকে, মহুয়ার এই রূপ দেখে পাল্টা আসরে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগ নেই। এটি তৃণমূলের আদি-নব্য গোষ্ঠীকোন্দলের ফল। তবে একজন জনপ্রতিনিধি তথা মহিলা সাংসদ যেভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভাষার মর্যাদা হারিয়ে গালিগালাজ করেছেন, তার তীব্র নিন্দা করেছে বিরোধী শিবির।

