জেলা
রাস্তায় জবরদখল ওঠাতে মলানদিঘিতে মাপজোক শুরু
প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কাঁকসার মলানদিঘি পঞ্চায়েতের আড়া মোড় থেকে শিবতলা মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি জায়গা দখল থাকায় থমকে ছিল রাস্তা নির্মাণের কাজ। এবার সেই জায়গা দখলমুক্ত করতে রাস্তায় নামল কাঁকসার মলানদিঘি পঞ্চায়েত। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাস্তা দিয়ে কাঁকসা এলাকা থেকে সহজে দুর্গাপুরে যাওয়া যায়। কাঁকসা ছাড়া আউশগ্রাম বা বীরভূম থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে দুর্গাপুর যেতে রাস্তাটি বহু মানুষ ব্যবহার করেন। এই রাস্তা ধরে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল যাওয়া যায়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। ফলে রাস্তা জুড়ে ছোট বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছিল। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছিল। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের উদ্যোগে এসআরডিএ থেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। পেভার ব্লক দিয়ে পুরো রাস্তা তৈরি করা হবে। রাস্তার কাজও শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশ একাংশের অভিযোগ করে জানান, জবরদখলের সমস্যা না মিটিয়েই কাজের অগ্রগতি হচ্ছিল। জবরদখল উচ্ছেদ না হলে রাস্তা চওড়া হবে না। এমনকি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জবরদখল করে রাখা ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে বোঝান রাস্তা চওড়া না হলে সমস্যা সকলেরই হবে। কিন্তু তারপরেও কেটে গিয়েছিল বেশ কয়েকদিন। জবরদখল উচ্ছেদ নিয়ে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কাঁকসার দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই রাস্তা আমি নিয়মিত ব্যবহার করি। রাস্তার দুপাশে রয়েছে প্রচুর বহুতল আবাসন। দুর্গাপুরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুল যাওয়া যায় এই রাস্তায়। ফলে চাপ থাকে ব্যাপক। জবরদখল উচ্ছেদ না করে রাস্তা সংস্কার করলে আগের মতই গাড়ির জ্যাম হবে।
অবশেষে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে রাস্তা মাপজোক করা হয়। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই ব্যক্তির জায়গায় দখলদারি দেখা গিয়েছে। একজনের চারফুট ও অন্যজনের পাঁচফুট জায়গা দখল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ ঘোষাল বলেন, রাস্তা নিয়ে জন শুনানির সময় ব্লক প্রশাসন এখানে উপস্থিত ছিল। সেখানে ঠিক হয়েছিল রাস্তা চওড়া করা হবে। কিন্তু জবরদখল উচ্ছেদ না করায় রাস্তায় যানজট হচ্ছে। এই রাস্তা চওড়া হলে সবার সুবিধা হবে। উপ-প্রধান বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওনারা দখল করে রয়েছেন। দখলমুক্ত না হলে পঞ্চায়েতের তরফে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

