জেলা
স্কুল চত্বরে কন্ডোমের ছড়াছড়ি, মালদহে প্রধান শিক্ষককে ‘ডিম-থেরাপি’
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: ইদানীং রাজনীতির ময়দানে ‘ডিম-থেরাপি’র রমরমা চললেও, এবার সেই আঁচ গিয়ে পড়ল খোদ শিক্ষাঙ্গনে চোর-দুর্নীতিগ্রস্তদের পাশাপাশি এবার ‘কুকীর্তি’র অভিযোগে গ্রামবাসীদের রোষের মুখে মাস্টারমশাইরা। স্কুল চত্বর থেকে একগাদা ব্যবহৃত গর্ভনিরোধক (কন্ডোম) উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল মালদহের মানিকচক ব্লকের হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন লাটে উঠেছিল। অনিয়মিত মিড-ডে মিলের পাশাপাশি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্কুল চত্বরে বসে আড্ডা মারার ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছিল। কিন্তু সোমবার সকালে সেই ক্ষোভ দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে, যখন স্কুলের আনাচকানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় একগাদা কন্ডোমের প্যাকেট ও ব্যবহৃত গর্ভনিরোধক। এই দৃশ্য দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, ক্লাসের সময়ে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন শিকেয় তুলে শিক্ষকেরা অন্য ঘরে ঢুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে রাখতেন এবং সেখানে অবৈধ যৌন সংসর্গে লিপ্ত হতেন। এই চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে সোমবার সকালে স্কুল ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষককে স্কুলের বাইরে টেনে আনা হয়। শুরু হয় দেদার ‘ডিম-থেরাপি’। গায়ে-মাথায় ডিমের কুসুম মাখা অবস্থাতেই অবশ্য শিক্ষকদের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, স্কুলকে কালিমালিপ্ত করতেই চক্রান্ত করে বাইরে থেকে এই সমস্ত জিনিস ফেলে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মানিকচক থানার পুলিশ। পুলিশ গিয়ে শিক্ষকদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষাঙ্গনের এই চরম কলঙ্কিত রূপ নিয়ে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়।

