মানকরের মেলায় লালনের দুর্নীতির টাকা নিয়ে শোরগোল
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তোলাবাজি, বেআইনিভাবে জমি দখল, মারধর এবং বালি পাচারের মতো ভুরিভুরি অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের দাপুটে তৃণমূল সভাপতি শেখ আব্দুল লালন এবং তাঁর ছেলে সঞ্জু শেখ। দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকার পর পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন এই শাসকদলীয় নেতা। আব্দুল লালনের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে আউশগ্রাম ও গলসি জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিগত কয়েক বছর ধরে ত্রাসের রাজত্ব চালানোর অভিযোগ উঠছিল। নিজের রাজনৈতিক পদের দাপট দেখিয়ে তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা সাধারণ মানুষের বিঘার পর বিঘা জমি বেআইনিভাবে দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু জমি দখলই নয়, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা এবং বিরোধীদের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও তাঁর নাম বারবার জড়িয়েছে। ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও, অবশেষে আইন নিজের পথে চলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ।
লালনের এই পতনে আউশগ্রাম এবং গলসির বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস দেখা গিয়েছে। এদিন দুপুরে যখন ধৃত নেতা ও তাঁর ছেলেকে হেলমেট পরিয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় বর্ধমান জেলা আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন থানার বাইরে জড়ো হওয়া উত্তেজিত জনতা ও বিজেপি কর্মীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ‘ডিম’ ছুঁড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে বেতের ঢাল ব্যবহার করতে হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছিল, আউশগ্রামের মানুষ আজ স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেল।”
এদিকে, আব্দুল লালনের এই কেলেঙ্কারির জল এবার গড়িয়েছে মানকরের ঐতিহ্যবাহী এক বার্ষিক মেলাতেও। প্রতি বছর এই মেলা পরিচালনায় লালন মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতেন বলে জানা গিয়েছে। নেতার গ্রেপ্তারি ও তাঁর বিপুল বেনামি সম্পত্তির হদিস মিলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সমাজমাধ্যমে এবং চায়ের দোকানে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— একজন প্রমাণিত দুর্নীতিগ্রস্ত ও তোলাবাজ নেতার থেকে মেলা কমিটি কীভাবে বছরের পর বছর টাকা নিয়ে এসেছে? এই কালো টাকা মেলা প্রাঙ্গণে ব্যবহার করে মেলার পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ। এই বিষয়ে মেলা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে হিসাব ও জবাবদিহি দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

