জেলা
ছয় বছর ধরে বিদ্যুৎসংযোগ নেই মানকরের মল্লিকপাড়া- মেটেপাড়ার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভবন আছে, অথচ প্রায় ছয় বছর ধরে বিদ্যুৎসংযোগ নেই মানকরের মল্লিকপাড়া- মেটেপাড়ার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। ফলে সেখানে গরমে পড়ুয়ারা আসতে চাইছে না। অভিযোগ, কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের লিখিত চিঠি দেওয়া হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এমনকি জলের সুবিধার জন্য কয়েকমাস আগে ট্যাঙ্ক বসিয়ে গেলেও তা পড়েই রয়েছে। ব্যবহার হয়নি। গলসি-১ ব্লকের বিডিও ইন্দ্রজিৎ মারিক বলেন, বিষয়গুলি দেখা হবে।
মানকরে একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। মল্লিকপাড়া মেটেপাড়ার কেন্দ্রে সংখ্যা শিশু ও মা মিলিয়ে উপভোক্তা ১৪ জন। কর্মীরা জানান, ২০২০ সাল থেকেই কারেন্ট নেই। অফিসে জানিয়েও লাভ হয়নি। আমাদের বলা হয়েছিল খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা হয়নি। কেন্দ্রের কর্মী মোদি টুডু (মুর্মু) বলেন, প্রচন্ড গরমে শিশুরা কষ্ট পায়। তারা ভবন থেকে বাইরে চলে যায়। গরমে তাদের রাখা যাচ্ছে না। মায়েরা কেউই এখানে বসতে চায় না। খাবার নিয়ে চলে যায়। তাছাড়া অফিসে অনলাইনে আপডেট দিতে হয়। কিন্তু এখানে গরমে বসেই সেই কাজ করতে হচ্ছে। অন্য কর্মী আদুরি পাল বলেন, বেশ কিছু সেন্টারে গ্যাস দেওয়া হলেও আমাদের এখানে দেওয়া হয়নি। শিশুদের খেলনার প্রয়োজন। চেয়ার, টেবিলও নেই। ট্যাঙ্কি আছে অথচ জল নেই। কেন্দ্রের পাশে থাকা টিউবকলের জল ব্যবহার করি। অনেক সময় তাতে জল পাওয়া না গেলে প্রায় হাফ কিলোমিটার দূর থেকে জল বইয়ে আনতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রে শিক্ষা দেওয়ার জন্য টিএলএম অর্থাৎ শিক্ষণ উপকরণ নেই বললেই চলে। শতরঞ্জি, চেয়ার অন্য কেন্দ্রে দেওয়া হলেও এখানে দেওয়া হয়নি। বাথরুমের অবস্থা খারাপ। দরজা নেই। তাছাড়া কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। ওখানে গেলে শরীর খারাপ হয়ে যায় ছেলেমেয়েদের। তাই পাঠাই না। এই কেন্দ্রের উপভোক্তা মৌসুমি মেটে বলেন, আমি প্রতিদিন আসি। অনেকসময় ভাত আর ডিমসিদ্ধ দেওয়া হচ্ছে। এই দিয়ে কি শিশুরা খেতে পারে? ইলেক্ট্রিক লাইন না থাকায় গরমে সমস্যা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে মানকরের কংগ্রেস নেতা জয়গোপাল দে বলেন, যেখানে শিশু ও মায়েরা আসছে সেখানে এই অবস্থা! প্রশাসন চোখে ঠুলি দিয়ে বসে আছে। বিজেপি নেতা সুজিত বিশ্বাস বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইলেক্ট্রিক লাইনের ব্যবস্থা করা হবে। তৃণমূল আমলে নেতারা যে নিজেদের পকেট ভরতেই ব্যস্ত ছিল এই ঘটনা তার প্রমান।

