জেলা
স্থায়ী সেতু পাচ্ছে মানকর-ভাতকুণ্ডা রাস্তা, দুর্নীতি-বিতর্কের মাঝেই স্বস্তির আলো গলসি ও আউশগ্রামে
প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দীর্ঘ এক বছরের চরম ভোগান্তি শেষে অবশেষে স্বস্তির খবর। মানকর থেকে ভাতকুণ্ডা যাওয়ার রাস্তায় ক্যানেলের ওপর এবার তৈরি হতে চলেছে একটি স্থায়ী সেতু। গলসি এবং আউশগ্রামের দুই বিধায়কের যৌথ উদ্যোগে এই সেতুর জট কাটতে চলায় আশার আলো দেখছেন দুই ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। তবে এই খুশির খবরের মাঝেই সেতু নির্মাণে অতীতের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাস্তায় একটি পুরনো সেতু থাকলেও প্রায় এক বছর আগে সুরক্ষার দোহাই দিয়ে তার ওপর লোহার বিম বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই বিপাকে পড়েন গলসি-১ ও আউশগ্রাম-২ ব্লকের হাজার হাজার বাসিন্দা। সেতুতে লোহার বিম থাকায় বড় গাড়ি তো দূর, সাধারণ বাস চলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বাস বন্ধ থাকার পর বর্তমানে মানকরের ভেতর দিয়ে ঘুরপথে বাস চালানো হচ্ছে।
দীর্ঘদিন বাস বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে যেমন অতিরিক্ত সময় ও টাকা খরচ করে মানকর বা বুদবুদ যাতায়াত করতে হয়েছে, তেমনই চূড়ান্ত লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বড় পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছিল। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের যাতায়াত ও অর্থনীতি দুই-ই থমকে গিয়েছে।
তবে এবার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে চলেছে বলে আশ্বাস মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র জানান, ওই ক্যানেলের ওপর একটি নতুন ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। এই বিষয়ে আউশগ্রামের বিধায়িকা কলিতা মাজির সঙ্গেও তাঁর বিস্তারিত কথা হয়েছে। দুই বিধায়কের তৎপরতাতেই নতুন এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
যদিও নতুন সেতুর ঘোষণার পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলের কাজ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গলসির বিধায়ক। রাজু পাত্রের অভিযোগ, “তৃণমূল জমানায় ওখানে পুরনো সেতুর পাশে আরেকটি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সেতুর জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, সেই অনুপাতে আদতে কোনো কাজই হয়নি।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল বলেই আজ এলাকার বাসিন্দাদের এমন চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
বিধায়কের কাছে স্থানীয়দের দাবি, দুর্নীতির তদন্ত হোক, কিন্তু দ্রুত যেন সেতুটি তৈরি করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

