জেলা
মানকরে শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় পালিত চিকিৎসক দিবস
প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পয়লা জুলাই দেশজুড়ে পালিত হলো জাতীয় চিকিৎসক দিবস। প্রতি বছরের মতো এ বছরও পূর্ব বর্ধমানের মানকর মঙ্গলমের উদ্যোগে অত্যন্ত সুচারু ও বর্ণাঢ্য এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় দিনটি উদ্যাপিত হলো। ভারতের কিংবদন্তি চিকিৎসক তথা পশ্চিমবঙ্গের রূপকার ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি স্মরণ করা হয় মানকরের সুসন্তান, এলাকার জনদরদী ও জনসেবক প্রয়াত চিকিৎসক ডাঃ অজিত কুমার দত্তকেও। তাঁদের স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
শতাধিক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মানকর মঙ্গলমের সদস্যরা এদিন এক নান্দনিক সাংস্কৃতিক নৈবেদ্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পর্বে মনমুগ্ধকর গান গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে নেন মনশ্রী চট্টোপাধ্যায়, রূপসা গুহঠাকুরতা এবং নন্দিনী কর্মকার। তাঁদের গানের সঙ্গে তবলায় যোগ্য সংগত করেন এলাকার প্রণম্য ও প্রবীণ তবলা শিক্ষক প্রদীপ কুমার লাহা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আবৃত্তি পর্বটিও ছিল জমজমাট। কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন দেবদ্যুতি রায়, নন্দিনী কুন্ডু ও দেবস্মিতা গোস্বামী। এছাড়াও বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী মলয় কুমার শুক্লর পাঠ উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করে। তবে এই পর্বের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংস্থার সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. প্রবীর কুমার পালের স্বরচিত কবিতা পাঠ, যা উপস্থিত সুধীমহলের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে। এরপরই ছিল নৃত্যের আসর। জ্যোতির্ময়ী ঘোষ, ঝিলিক লোহার এবং কেয়া লোহারের অনবদ্য ও ছন্দোময় নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
চিকিৎসক দিবসের এই পুণ্যলগ্নে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা তথা ডাক্তারবাবু, নার্স এবং আশা (ASHA) কর্মীদের মানকর মঙ্গলমের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁদের হাতে উত্তরীয়, মেডেল ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন উদ্যোক্তারা।
এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মানকর মঙ্গলমের মুখপত্র 'বৈতনিক' পত্রিকার ‘চিকিৎসক দিবস বিশেষ সংখ্যা’-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটে। পত্রিকাটির উন্মোচন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান ডাঃ আশীষ কোনার। একই সাথে, সংস্থার পক্ষ থেকে সম্প্রতি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া চারটি সমাজসেবামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি সুন্দর ফটো অ্যালবাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ড. প্রবীর কুমার পাল।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে এই সুন্দর ও সার্থক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সবশেষে, উপস্থিত প্রত্যেকের হাতে সংস্থার পক্ষ থেকে একটি স্মারক থলি তুলে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল সুস্বাদু আহারের প্যাকেট এবং গ্রীষ্মের উপশমে ঠান্ডা পানীয়। সুশৃঙ্খল ও মার্জিত এই আয়োজনের জন্য উপস্থিত সকলেই মানকর মঙ্গলমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংস্থার পরবর্তী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্র পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন বলে জানান। সংস্থার পক্ষে মলয়বাবু বলেন, প্রতি বছরই এই দিনটি উদযাপিত হয়। আগামীতেও করা হবে।

