মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে এইচপিভি টিকাকরণের গুজব ও অনীহা দূর করতে অভিনব উদ্যোগ
নূর আহমেদ,মেমারি: জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ নিয়ে সমাজমাধ্যমের ভুয়ো খবর ও মানুষের অনীহা দূর করতে মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর হিমাদ্রি শেখর দাস এবং ডাক্তার তালাত সাবা জানান, ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য এই ভ্যাকসিনের একটি ডোজই যথেষ্ট, যা ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি দেওয়া যায়। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই টিকার কারণে ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্ব বা সন্তানহীনতা হওয়ার যে রটনা সংখ্যালঘু এলাকায় ছড়াতে দেখা যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল। বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এই ভ্যাকসিনের সামান্য জ্বর বা সর্দি ছাড়া কোনো বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী অঞ্চলের সুবিধার্থে এখন থেকে মেমারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে পাল্লারোড, দুর্গাপুর এবং দেবীপুর প্রাইমারি হেলথ সেন্টারেও (PHC) এই টিকাকরণ ড্রাইভ চালানো হবে। পাশাপাশি আশা, এএনএম ও সিএইচও কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছেন। বৈঠকে হাসপাতালের BMOH ডক্টর দেবাশীষ বালা ইঙ্গিত দেন, জেলা স্তরের আলোচনা অনুযায়ী যারা এই ভ্যাকসিন নিতে অনীহা প্রকাশ বা প্রত্যাখ্যান করবেন, ভবিষ্যতে তাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এখনো নির্দিষ্ট কোন নোটিফিকেশন জারি হয়নি।
তবে গাইডলাইন অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের ইস্ট জাতীয় সমস্যা আছে, তারা এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন না। স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মেয়েদের ভবিষ্যতের সুরক্ষায় এই নিখরচায় সরকারি টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য চিকিৎসকেরা আবেদন জানিয়েছেন।

