বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

মিড-ডে মিলের মাংস চুরি করে শিক্ষকদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন!

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
মিড-ডে মিলের মাংস চুরি করে শিক্ষকদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন!
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: ছাত্রছাত্রীদের পাতের পুষ্টিকর খাবার চুরি করে স্কুলে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত উৎসব পালন! এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নদিয়ার শান্তিপুর থানার নতুনপাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি বিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার মিড-ডে মিলের মাংস চুরি এবং তা দিয়ে এক শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের তোড়জোড়কে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে শিক্ষক, রাঁধুনি এবং অভিভাবকদের মধ্যে তুমুল সংঘাত বাঁধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় শান্তিপুর থানার পুলিশকে।

বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মীদের (রাঁধুনি) একাংশের অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত চুরি হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার স্কুলেরই এক শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ ভুরিভোজের আয়োজন চলছিল। রাঁধুনিদের দাবি, সকালবেলাতেই শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের জন্য আনা মাংস থেকে একটি বড় অংশ যেন আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়। সেই মাংস শিক্ষকরা নিজেদের জন্য আলাদাভাবে রান্না করিয়ে খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কর্মীদের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের সরকারি বরাদ্দ ভেঙেই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের জন্মদিন এবং বিবাহবার্ষিকীর মতো ব্যক্তিগত সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে আসছে।
নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অবশ্য একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাঁদের পাল্টা দাবি, মিড-ডে মিলের কর্মীরাই উল্টে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ ডিম, মাংস, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী চুরি করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। শিক্ষকরা এই চুরির প্রতিবাদ করাতেই রাঁধুনিরা একজোট হয়ে তাঁদের ফাঁসাতে এই ধরণের নোংরা ও ভিত্তিহীন মনগড়া গল্প ফাঁদছেন।
স্কুলের ভেতরে মাংসের ভাগাভাগি ও ব্যক্তিগত উৎসব পালনের এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। নিজেদের ছেলেমেয়েদের হকের খাবার নিয়ে এমন টানাপোড়েনের কথা জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তাঁরা দলবেঁধে বিদ্যালয়ে চড়াও হয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতার দাবি, বাচ্চাদের পুষ্টির খাবার চুরি করে শিক্ষকদের উৎসব পালন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে শান্তিপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (SI) জানিয়েছেন, মিড-ডে মিল নিয়ে শিক্ষক ও কর্মীদের এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।