জেলা
আইন ভাঙলেই জরিমানা, কড়াকড়ি ময়নাগুড়িতে
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ময়নাগুড়ি: রাস্তায় গাড়ির গতি যেমনই হোক, ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার অভ্যাস যেন কিছুতেই বদলাচ্ছে না একাংশের চালকদের। মাথায় হেলমেট ছাড়াই হুশ করে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা এক বাইকে তিন জন চেপে ঘুরে বেড়ানো— এ চিত্র ময়নাগুড়ির রাস্তায় অত্যন্ত চেনা। কিন্তু এবার এই আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধেই কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। গত এক মাসে ময়নাগুড়ি থানা এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের জালে ধরা পড়ল ২,১১৩টি মোটরবাইক ও ছোট চার চাকার গাড়ি। ট্রাফিক আইন ভাঙার অপরাধে চালকদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ মোট ১ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকার পথ দুর্ঘটনা রুখতে ও ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচিকে জোরদার করতে মাস জুড়ে বিশেষ নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শহরের ব্যস্ততম মোড় ও জাতীয় সড়কের সংযোগস্থলে ওত পেতে ছিলেন ট্রাফিক কর্মীরা। আর তাতেই হাতেনাতে ধরা পড়েন শয়ে শয়ে নিয়মভঙ্গকারী। বরাবরের মতো এবারও ট্রাফিক আইন ভাঙার তালিকায় সবথেকে ওপরে রয়েছে মোটরবাইক চালকদের নাম।
ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, গত মাসে শুধুমাত্র মাথায় হেলমেট না পরে বাইক চালানোর অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে ১,১৩৪ জনকে। শুধু চালকই নন, চালকের পেছনে বসে থাকা সহ-আরোহীর মাথায় হেলমেট না থাকার কারণে জরিমানার কবলে পড়েছেন আরও ৮০৫ জন। নিয়ম ভেঙে এক মোটরবাইকে তিন জন সওয়ার হওয়ার জন্য পুলিশ ৬০ জন চালককে জরিমানা করেছে। অন্যদিকে, ছোট চার চাকার গাড়ি চালানোর সময় সিট বেল্ট না বাঁধার অপরাধে খেসারত দিতে হয়েছে ৫৪ জনকে এবং উল্টো দিক দিয়ে অর্থাৎ ভুল পথে গাড়ি চালানোর জন্য ধরা পড়েছেন ২৬ জন চালক।
ময়নাগুড়ি থানার ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক জানান, জরিমানা আদায় করা পুলিশের মূল লক্ষ্য নয়। চালক ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থেই এই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। বারবার সচেতন করার পরেও অনেকে নিয়ম মানছেন না। তাই বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ। পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দিনেও এই ধরণের আচমকা চেকিং ও কড়া অভিযান লাগাতার জারি থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

