জেলা
দীর্ঘদিন বেহাল রাস্তা, ক্ষোভ মতুয়া অধ্যুষিত রাজবাঁধ এলাকায়
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ কাঁকসার আমলাজোড়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রাজবাঁধ কলেজপাড়ার প্রধান রাস্তাটি পাকা করার দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি মেনে বিধানসভা ভোটের আগে পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু তারপর দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। ফলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষকে। অভিযোগ, ঠিকাদারকে এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৎকালীন মন্ত্রী রাস্তা তৈরি না করে শুধু শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু কীভাবে কাজ হবে তা দেখেননি। আমরা ইতিমধ্যেই ওই রাস্তা নিয়ে স্কিম জমা দিয়েছি। বিটুমিন না করে যাতে কংক্রিট করা যায় তা দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাঁধ থেকে কলেজপাড়া যাওয়ার রাস্তার একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। সেই অংশটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত এই এলাকার বাসিন্দাদের। কোথাও মাটি, কোথাও ইট বেরিয়ে রাস্তার বেহাল দশা হয়েছিল। বৃষ্টি হলে রাস্তায় পথ চলতে সমস্যা হয়। অথচ ১৭০ পরিবার এই রাস্তাটি ব্যবহার করে। যে কোন প্রয়োজনে রাজবাঁধ আসতে এই রাস্তাটিই একমাত্র ভরসা। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বাম আমল থেকেই রাস্তার দাবি আমাদের। কিন্তু এতদিন ধরে রাস্তা হয়নি। এবার ভোট ঘোষণার আগে বোর্ড লাগানো হয়। বলা হয়েছিল ভোটের আগে রাস্তা দেবে। কিন্তু ভোটের ফল বেরোনোর পরেও এতদিনে কাজ শেষ হল না। এই ভোগান্তির দায় কে নেবে?
এলাকার বাসিন্দা পুতুল বৈরাগী বলেন, রাস্তার কাজ এমন ভাবে করেছে যে আমাদের মন্দির এখন নষ্ট হওয়ার জোগাড়। এখানে গার্ড ওয়াল দেওয়ার কথা। কিন্তু এখন মন্দিরের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ না করলে মন্দির ভাঙন বাঁচানো যাবে না। তিনি জানান, পাড়ায় টোটো, সিএনজি ও মোটর ভ্যান চালিয়ে অনেকের সংসার চালান। কিন্তু রাস্তা বেহাল হওয়ার জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রায়ই খারাপ হয়। লাভের টাকা যন্ত্রাংশ সারাই করতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন গোঁসাই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা নিয়ে আন্দোলন করছি। মতুয়া ভোট হারানোর ভয়ে তড়িঘড়ি শিলান্যাস করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে গিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার বাসুদেব ঘোষ বলেন, ওখানে জায়গা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের জন্য অপেক্ষা করছি। তবে রাস্তার অন্য অংশের কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে। বাকি অংশটুকুরও কাজ হবে। বর্ষার জন্য কাজ আটকে রয়েছে সেটা দপ্তরের আধিকারিকরাও জানেন।

