জেলা
পড়াশোনার বেহাল দশা প্রশাসনের দ্বারস্থ অভিভাবকেরা
প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শতবর্ষ প্রাচীন আউশগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন, টয়লেটের বেহাল দশা, সরকারি ফান্ডের সঠিক ব্যবহার না করা সহ একাধিক বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, পঠন-পাঠনের মান ক্রমশ নিম্নমুখী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এসআই মুনমুন দে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ওনারা যে নির্দেশ দেবেন সেই অনুসারে কাজ হবে।
১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বভারতীর কর্মী নবনীধর মিত্তির পাঁচ বিঘা জায়গা দান করেছিলেন বিদ্যালয়ের জন্য। আশেপাশের ছোঁড়া, ভুঁয়েরা-সহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে পড়ুয়ারা নিয়মিত আসে। শতবর্ষ প্রাচীন এই বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন সম্পূর্ণ করেছে একাধিক কৃতি পড়ুয়া। কয়েক বছর আগে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের পড়ুয়া রাজ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করেছিল। ছাত্রছাত্রী মিলিয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ১১০০ জন। কিন্তু অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পড়াশোনার মান নেমেছে স্কুলের। এমনকি পরিকাঠামোর বেহাল দশার দিকেও নজর নেই। লিখিত অভিযোগে অভিভাবকরা দাবি করেন, বিদ্যালয়ের দুটি টয়লেটের অবস্থা শোচনীয়। একটি সম্পূর্ণ ভগ্নপ্রায়, অন্যটি নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অযোগ্য। অভিভাবক নীলকন্ঠ মন্ডল, গৌরাঙ্গ রায়দের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা সঠিক সময়ে প্রদান করা হয় না। সহযোগিতারও অভাব রয়েছে। তাছাড়া পুরনো হস্টেলটি তত্ত্বাবধানের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গরীব ও এসসি, এসটি পরিবার থেকে ছেলেরা হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। হস্টেল বন্ধ হওয়ার ফলে সমাজের সকল স্তরের পড়ুয়ার সমস্যায় পড়ছে। তাছাড়া মিড-ডে মিলের গুনগত মান আশানুরূপ নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সম্প্রতি এক অভিভাবক সভায় টিআইসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। ব্যাপক হইচই হয়েছিল। কোন রকমে পরিস্থিতি সেদিন সামাল দেওয়া গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। তাছাড়া বিভিন্ন ফান্ডের টাকার সঠিক ব্যবহার করা হয়নি। শুধু তাই নয় স্কুলের দুর্নীতির নিয়ে সরব হলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাথরুম শুধু নয় পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। সবমার্সিবল চালিয়ে পানীয় জল সংগ্রহ করে পড়ুয়ারা। কারেন্ট না থাকলে মেলে না জল। অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করবেন। বিষয়টি নিয়ে টিআইসি দশরথ বাগদিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।

