জেলা
সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু বাবা-ছেলের, তীব্র চাঞ্চল্য
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলিঃ সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসের গ্রাসে ফের অকালমৃত্যুর কোলাহল। নির্মীয়মাণ শৌচাগারের চেম্বার থেকে রাজমিস্ত্রিকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হল বাবা ও ছেলের। রবিবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার কৃষ্টপুর লাগোয়া গুয়াডাঙা গ্রামে। মৃতদের নাম সুনীল পণ্ডিত (৬৯) এবং লক্ষ্মণ পণ্ডিত (৩২)। এই ঘটনায় হুগলি জেলা লাগোয়া ওই সীমান্ত গ্রামে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, পণ্ডিত পরিবারে নতুন একটি শৌচাগার তৈরির কাজ চলছিল। দু’দিন আগেই সেই নির্মীয়মাণ শৌচাগারের চেম্বারের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। পাশে একটি পুরনো চেম্বারও রয়েছে। রবিবার সকালে ওই শৌচাগারের চেম্বারে নেমে ঢালাইয়ের সাটারিং বা কাঠের পাটা খোলার কাজ করছিলেন এক রাজমিস্ত্রি। কিন্তু চেম্বারের ভেতরে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন।রাজমিস্ত্রিকে ভেতরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে উদ্ধার করতে চেম্বারে নামেন গৃহকর্তা সুনীল পণ্ডিত এবং তাঁর ছেলে লক্ষ্মণ পণ্ডিত। কিন্তু ট্যাঙ্কের ভেতরে জমে থাকা অতিরিক্ত বিষাক্ত গ্যাসের জেরে মুহূর্তের মধ্যে তাঁরাও অসুস্থ হয়ে সেখানে লুটিয়ে পড়েন।চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তিনজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চেম্বারের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।
আক্রান্তদের দ্রুত নিকটবর্তী হুগলির কামারপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা সুনীল পণ্ডিত ও লক্ষ্মণ পণ্ডিতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।হাসপাতাল সূত্রের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকা চেম্বারের নীচে তৈরি হওয়া কার্বন মনোক্সাইড বা হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাসের জেরেই এই দুর্ঘটনা। দমবন্ধ হয়েই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। পুলিশ দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার আসল কারণ জানতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

