টাকা ফেরতের দাবিতে রণক্ষেত্র মাথাভাঙা, তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে ঝাঁটা-লাঠি হাতে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: চাকরি এবং জমি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। কাঠগড়ায় খোদ শাসকদলের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য। বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হলো কোচবিহারের মাথাভাঙা-১ ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোগরামগুড়ি এলাকায়। অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য শ্যামল বর্মন ওরফে কমলাকান্ত বর্মনের বাড়ির সামনে লাঠি, ঝাঁটা হাতে নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন শয়ে শয়ে স্থানীয় বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। সরকারি চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে একাধিক বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এলাকার জমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা আইনি উপায়ে মিটিয়ে দেওয়ার নাম করেও বহু গরিব মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও না মিলেছে চাকরি, না মিটেছে জমির সমস্যা।ভুক্তভোগীদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে ওই তৃণমূল সদস্য তাঁদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। সকাল থেকেই ভোগরামগুড়ি এলাকার মহিলারা ঝাঁটা ও লাঠি উঁচিয়ে নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন। শুরু হয় স্লোগান ও বিক্ষোভ। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা সুদ-আসলে ফেরত দিতে হবে, অন্যথায় এই আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেবে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও গ্রামবাসীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। এই ঘটনা নিয়ে কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কাটমানি এবং চাকরি চুরি তৃণমূলের ডিএনএ-তে রয়েছে, এই পঞ্চায়েত সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। অন্য দিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, আইন আইনের পথে চলবে; তবে এর পেছনে বিরোধীদের কোনো রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

