তৃণমূলের সহ-সভাপতিকে চড়, ছোড়া হলো ডিম!
নিজস্ব প্রতিবেদন, করিমপুর: পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে তৃণমূলের সহ-সভাপতিকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে সপাটে চড় মারার অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, মারধরের পর তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার নদীয়ার করিমপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয় চত্বরে এই বেনজির হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি স্বতন্ত্র খবর)।
এই নজিরবিহীন হেনস্থার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত নেতার নাম মিঠু সাহা, যিনি করিমপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। বুধবার তিনি এবং এক কর্মাধ্যক্ষ সমিতির অফিসে বসে কাজ করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। তারা মিঠু সাহাকে জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে আনে এবং চড় মারতে শুরু করে। এরপর কার্যালয় চত্বরেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। চরম লাঞ্ছিত অবস্থায় কোনো রকমে সেখান থেকে বাড়ি ফিরে যান ওই তৃণমূল নেতা।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এ দিন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর অফিশিয়াল সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আজ করিমপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির অফিসের ভেতরে যেভাবে সহ-সভাপতি এবং একজন কর্মাধ্যক্ষর ওপরে আক্রমণ করা হয়েছে, সেটি অতি লজ্জাজনক। একটি সরকারি দপ্তরের ভেতরে ঢুকে এই ধরনের গুণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যাঁরা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের চিহ্নিত করে থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে। একজনকেও রেয়াত করা হবে না।
অন্য দিকে, লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে ‘ডিম হামলার’ শিকার হয়েছেন। তবে করিমপুরের এই ঘটনায় দলীয় কোন্দল নাকি বিরোধী রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

