বিনোদন
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ডেমোগ্রাফি ইজ ডেস্টিনি’ ঘিরে তীব্র চর্চা
প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের পরিবর্তনশীল জনসংখ্যা এবং বিশেষ করে হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত কমে যাওয়ার মতো এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এবার সেলুলয়েডের পর্দায় নিয়ে এলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাখ্যা নারায়ণ সিং ও অংশুমান শেখর। সদ্য সমাপ্ত ১৯তম মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (MIFF) ২০২৬ প্রদর্শিত তাঁদের নতুন তথ্যচিত্র 'ডেমোগ্রাফি ইজ ডেস্টিনি' (Demography is Destiny) নিয়ে সিনেমা মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক স্তরে ব্যাপক চর্চা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। উৎসবের জাতীয় প্রতিযোগিতা (তথ্যচিত্র) বিভাগে মনোনীত এই সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।
রবীন্দ্র মণি লাল সাংভির প্রযোজনায় তৈরি এই তথ্যচিত্রে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের ধর্মীয় জনসংখ্যার কাঠামোগত রূপান্তর এবং তার সম্ভাব্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সেন্সাস বা আদমশুমারির পরিসংখ্যান। পরিচালকদের বক্তব্য, দীর্ঘমেয়াদী এই জনসংখ্যার পরিবর্তন কীভাবে দেশের নির্বাচনী রাজনীতি, সাংস্কৃতিক পরিচিতি এবং সামাজিক চরিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, তা এই ছবিতে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
'কেরালা স্টোরি ২' পরিচালনার জন্য পরিচিত কামাখ্যা নারায়ণ সিংয়ের এই বিশেষ তথ্যচিত্রটির স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আশীষ শেলার এবং মঙ্গল প্রভাত লোধা সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সিনেমাটি দেখার পর সমাজ ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে জনসংখ্যার এই ভারসাম্য নিয়ে এখনই নাগরিকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন উপস্থিত দর্শকদের একাংশ। সব মিলিয়ে, সমসাময়িক ভারতের জনসংখ্যা ও রাজনীতির এক জটিল প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে 'ডেমোগ্রাফি ইজ ডেস্টিনি' ২০২৬ সালের মুম্বাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত সৃষ্টি হিসেবে জায়গা করে নিল।

