হট টপিক
বাল্যবিবাহ বন্ধ করল প্রশাসন, কনের মায়ের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রশাসনের তৎপরতায় রুখে দেওয়া গেল এক নাবালিকার বাল্যবিবাহ। শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৩) বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এই ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কনের মাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেঘনা উপজেলার একটি গ্রামে ওই নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ের তোড়জোড় চলছিল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ছিল বিয়ের মূল অনুষ্ঠান। নির্দিষ্ট সময়ে বরপক্ষ আসার কথাও ছিল। কিন্তু তার আগেই গোপন সূত্রে এই খবর পৌঁছে যায় মেঘনা উপজেলা প্রশাসনের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই আর দেরি না করে পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ওই গ্রামে অভিযানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী আক্তার।
প্রশাসনিক দল যখন বিয়েবাড়িতে পৌঁছায়, তখন সেখানে ধুমধাম করে রান্নাবান্না এবং উৎসবের আবহ চলছিল। আচমকা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে থতমত খেয়ে যান বাড়ির লোকজন। কনের নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, মেয়েটি নাবালিকা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। এর পরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিয়ের সমস্ত আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না— এই মর্মে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়।
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, বাল্যবিবাহ সমাজের একটি অভিশাপ। আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার অপরাধেই কনের মাকে এই আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এলাকায় বাল্যবিবাহ রুখতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনের এই ধরনের কড়া নজরদারি ও অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

