বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

বারুইপুরে নাবালিকা খুনে চরম নৃশংসতার প্রমাণ ময়নাতদন্তে

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬
বারুইপুরে নাবালিকা খুনে চরম নৃশংসতার প্রমাণ ময়নাতদন্তে
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা নিখোঁজ রহস্যের অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম এবং পৈশাচিক নৃশংসতা। ১২ বছরের এক বালিকাকে পাশবিক যৌন নির্যাতন ও খুনের যে অভিযোগ উঠেছিল, ময়নাতদন্তের (Post-mortem) প্রাথমিক রিপোর্ট আসতেই তার প্রতিটিতে সিলমোহর পড়ল। চিকিৎসকদের দেওয়া রিপোর্টে যে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে, তা শুনে শিউরে উঠছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে, মেয়েটির ওপর চরম যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জীবন্ত জলে ডুবিয়ে কফিনে শেষ পেরেকটি মারা হয়েছে। 

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্যাতিতা নাবালিকার সারা শরীরে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩৫টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। দুষ্কৃতীদের দল কতটা হিংস্র ছিল, তা স্পষ্ট মেয়েটির ক্ষতবিক্ষত শরীর দেখলেই। তার মুখ, ঠোঁট, বুক ও মাথায় মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে। কোনো ভারী জিনিস দিয়ে সজোরে আঘাত করে কিংবা মাটিতে আছড়ে মেরে তার মাথা গুরুতর জখম করা হয়েছিল। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞরা মেয়েটির যৌনাঙ্গেও অসংখ্য গভীর ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে মৃত্যুর আগে তাকে চরম পাশবিক যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।

রিপোর্টে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো অংশটি হলো মেয়েটির মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মাথায় ও শরীরে ওই মারাত্মক আঘাতের পরও ১২ বছরের মেয়েটির দেহে প্রাণ ছিল। সে অচেতন বা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও বেঁচে ছিল। সেই অবস্থাতেই প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাকে জলে ফেলে দেয় অপরাধীরা। ফুসফুসে জল ঢুকে শ্বাসরোধ হয়েই মূলত তার মৃত্যু ঘটে। অর্থাৎ, ভারী বস্তুর আঘাত এবং শেষে জলে ডুবিয়ে দেওয়া—এই দুইয়ের জেরেই নিভে গেছে ফুটফুটে মেয়েটির জীবনপ্রদীপ।

এই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই বারুইপুর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। অপরাধীদের অবিলম্বে ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার নৃশংসতা দেখে পকসো (POCSO) আইন এবং খুনের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে। এই ঘটনার পেছনে পরিচিত কেউ নাকি কোনো সংগঠিত অপরাধ চক্র জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বারুইপুর জেলার পুলিশ।