সর্বশেষ খবর
অন্নপূর্ণার ৩ হাজারেই লুকিয়ে কোটিপতি হওয়ার চাবিকাঠি
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য রাজনীতিতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে চাপানউতোর যাই চলুক না কেন, সাধারণ মানুষের পকেটে এখন ঢুকছে কড়কড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু সরকারি সাহায্যের এই টাকা কি শুধুই সংসার চালানোর খরচ? নাকি এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে কোটিপতি হওয়ার এক গুপ্ত ব্লু-প্রিন্ট?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য মনে হওয়া এই ৩,০০০ টাকাই সঠিক জায়গায় খাটলে বদলে যেতে পারে আমজনতার ভাগ্য। কীভাবে? উত্তরটা ম্যাজিকের মতো মনে হলেও আসলে তা খাঁটি গণিত— যার নাম ‘চক্রবৃদ্ধি’ বা কম্পাউন্ডিংয়ের জাদু।
সাধারণত মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিট (FD)। কিন্তু সেখানে সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির বাজারে এই সুদে কোটিপতি হওয়া অসম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি দীর্ঘমেয়াদে বড় তহবিল গড়তে হয়, তবে বেছে নিতে হবে ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)। গত এক-দেড় দশকের ইতিহাস বলছে, ভালো মানের ইনডেক্স বা ডাইভার্সিফাইড ফান্ড গড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক রিটার্ন দিতে সক্ষম।
প্রতি মাসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা যদি কোনো ভালো ফান্ডে এসআইপি-র মাধ্যমে রাখা যায়, তবে কোটিপতি হতে কত দিন লাগবে? ১৫% বার্ষিক রিটার্ন পেলে ও ২৫ বছর একটানা এই বিনিয়োগ চালালে আপনার পকেট থেকে আসল জমা পড়বে ৯ লক্ষ টাকা। কিন্তু কম্পাউন্ডিংয়ের জেরে আপনার মোট তহবিলের অঙ্ক দাঁড়াবে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা।
১২% বার্ষিক রিটার্ন পেলে অর্থাৎ যদি বাজার একটু মন্দাও থাকে, তবে আনুমানিক ১২% রিটার্ন ধরে ২৯ বছর ৫ মাসের মধ্যে তৈরি হবে ১ কোটি টাকার তহবিল। যাঁরা ২৫ বা ৩০ বছর অপেক্ষা করতে চান না, তাঁদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ কৌশল, যাকে লগ্নির পরিভাষায় বলা হয় ‘Step-up SIP’। প্রতি বছর নিজের উপার্জনের বৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে যদি বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া যায় (যেমন প্রথম বছর ৩,০০০, দ্বিতীয় বছর ৩,৩০০, তৃতীয় বছর ৩,৬৩০ টাকা), তবে লক্ষ্য পূরণ হবে রকেটের গতিতে। এই ফর্মুলায় বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন পেলেও মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে আপনার জমা টাকা ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের মতে, কোটিপতি হওয়ার এই যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় খলনায়ক হলো অধৈর্য হওয়া। প্রথমত, মাঝপথে কোনো প্রলোভনে পড়ে বা ছোটখাটো প্রয়োজনে এই ফান্ড থেকে টাকা তোলা যাবে না। দ্বিতীয়ত, শেয়ার বাজার পড়ে গেলে ভয় পেয়ে এসআইপি বন্ধ করা মারাত্মক ভুল। কারণ মন্দার বাজারেই কম দামে বেশি ‘ইউনিট’ কেনা সম্ভব হয়। আর শেষ নিয়মটি হলো, যত কম বয়সে এই লগ্নি শুরু করা যাবে, কোটিপতি হওয়ার সম্ভাবনা ততটাই নিটোল হবে।
রাজ্যের দেওয়া হাতখরচের টাকাকেই ভবিষ্যতের মূলধন বানিয়ে কোটি টাকার মালিক হওয়া এখন আর কোনো অলীক স্বপ্ন নয়, বরং সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলার এক বাস্তব রূপরেখা।

