বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

ধর্মের গূঢ় তত্ত্বটা কী?

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
ধর্মের গূঢ় তত্ত্বটা কী?
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

ধর্মে কোন কিছুই গোপনীয় নেই। কিন্তু কিছু গূঢ় তত্ত্ব আছে ‌। উত্তমম্ রহস্যম্- এই শ্রেষ্ঠ রহস্য বা নিগূঢ় সত্যটির সাহায্যে মানবজাতিকে পশুসুলভ বৃত্তি থেকে উন্নীত করা যেতে পারে। সুতরাং এর থেকে বড় খবর আর কি হতে পারে!   ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সখারূপে অর্জুনকে বলছেন, হে অর্জুন,এই বার্তা আমি পুরাকালে বিবস্বানকে জানিয়েছিলাম। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ প্রাঙ্গণে আজ সেই বার্তা আমি তোমাকে জানাচ্ছি। কিন্তু পুরাকালের এই যোগের কথা কেন পুনরায় অর্জুনকে জানাতে হচ্ছে? কারণ আচার্য শঙ্কর তাঁর ভাষ্যে বলছেন, দুর্বলান্ অজিতেন্দ্রিয়ান্ প্রাপ্য যোগো নষ্টঃ পরন্তপ। ঐ যোগ নষ্ট হয়ে গেছে, দুর্বলের ও দেহ-মনের শক্তিতন্ত্রের অসংযত ব্যবহারকারীর হাতে পড়ে। ঐ শক্তিতন্ত্রই হলো সর্বপ্রকার চারিত্রিক ভিত্তি। এই শক্তিতন্ত্রের নিয়মানুবর্তিতা কিছুটা পালন না করলে চারিত্রিক সম্পদ লাভ সম্ভব নয়। পশুদের ওই ইন্দ্রিয়তন্ত্রের উপর কোন সংযম নেই। তাই তারা জীবন ধারণ করে ইন্দ্রিয় ভোগের স্তরে। একমাত্র মানুষই উঠতে পারে ওই স্তর থেকে, যদি মানুষ কিছুটা ইন্দ্রিয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যে যত বেশি ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে তত উচ্চতর চরিত্রের অধিকারী হবে। কিন্তু আমাদের সকলের পক্ষে এক মুক্ত সমাজের মার্জিত রুচিসম্পন্ন নাগরিক হতে গেলে ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই কিছুটা করতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাই বলছেন- "আমি এই বার্তা রাজর্ষি দের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম।" স্বাধীনতা লাভের পর ভারতবাসীর হাতে ক্ষমতা এসেছে। যারা আগে নগণ্য ব্যক্তি ছিল এখন তারাই গণ্যমান্য হয়ে প্রভূত ক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা হাতে পাওয়া সহজ কিন্তু তাকে ঠিকমত প্রয়োগ করা কঠিন কাজ। এই ক্ষমতা নিয়ে আমরা কি করব এই শিক্ষা থেকে আমরা বিমুখ। তাই ক্ষমতাকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর শিক্ষা আমাদের সকলের নেই। হলেই ক্ষমতার অপব্যবহারের, আত্মম্ভরিতার, ভ্রষ্টাচারের দৃষ্টান্ত প্রতিদিন আমরা পাচ্ছি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ হবে জনগণকে শক্তিশালী করা, তাদের দুর্বল করে রাখা নয়। তাই লোককল্যাণের জন্য ক্ষমতার ব্যবহার করতে হলে ক্ষমতাবানদের রাজর্ষি হতে হবে। শুধু রাজা হলে ক্ষমতার অপব্যাবহার হবে। তাকে ঋষিও হতে হবে। কারণ নিজে ইন্দ্রিয়ভোগে মত্ত হলে রাজা হয়ে উঠবে জনগণের ক্ষতিকারক শত্রু। একদিকে রাজা আর অন্যদিকে ঋষি, এই দুটি গুণের সমাহার চাই। এই শিক্ষা অর্জন করতে হলে সর্বস্তরে শ্রীমদ্ভাগবত গীতাকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করতেই হবে।