হট টপিক
বস্তি উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্র কাঠমাণ্ডু
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের প্রবল গণবিক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠল প্রতিবেশী দেশ নেপাল। গত বছর যে ‘জ়েনজ়ি’ বা তরুণ প্রজন্মের অভূতপূর্ব আন্দোলনের ধাক্কায় ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল তৎকালীন কে পি শর্মা ওলির সরকার, সেই তরুণ সমাজই এবার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করল। কাঠমাণ্ডু জুড়ে বিকল্প কোনো পুনর্বাসন না দিয়ে নির্বিচারে বস্তি উচ্ছেদ করার প্রতিবাদে পথে নেমেছেন হাজার হাজার পড়ুয়া, সমাজকর্মী ও সাধারণ যুবক। এই গণবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্দোলনকারীরা এখন সরাসরি বলেন্দ্রর ইস্তফার দাবি তুলে কাঠমাণ্ডুর রাজপথ অচল করে দিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কাঠমাণ্ডু ও তার সংলগ্ন এলাকায় নদী তীরবর্তী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এক ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বলেন্দ্র শাহের সরকার। ইতিমধ্যেই কোনো আগাম পরিকল্পনা ছাড়াই প্রায় ২,৬০০টি বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ফলে কয়েক হাজার মানুষ রাতারাতি গৃহহীন ও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। এই অমানবিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই গর্জে উঠেছে নেপালের যুবসমাজ। শুধু তাই নয়, দিন কয়েক আগে ট্রাফিক পুলিশের জরিমানাকে কেন্দ্র করে কাঠমাণ্ডুর রাজপথে এক ২৫ বছর বয়সী রাইড-শেয়ারিং চালকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা এই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে।
রবিবার থেকে সিংহদরবার সচিবালয়ের বাইরে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে সমবেত হয়েছেন শত শত তরুণ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই একনায়কতান্ত্রিক ও দরিদ্রবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলিকে স্থায়ী আবাসন দিতে হবে। বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। যুব মোর্চা ‘জ়েন-জি নেপাল’-এর তরফে সাফ জানানো হয়েছে, যে প্রত্যাশা নিয়ে প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে বলেন্দ্র শাহকে বিপুল সমর্থন দেওয়া হয়েছিল, তিনি এক বছরের মধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

