মুম্বই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্তদের খালাস ও আইনি টানাপোড়েন
নিজস্ব প্রতিনিধি: ৭/১১ মুম্বই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্তদের খালাস ও আইনি টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই মুম্বইয়ের সাতটি লোকাল ট্রেনে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ৮১৭ জন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত ও রায় নিয়ে সম্প্রতি বোম্বে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় আইনি মোড় এসেছে। বিগত বছরে বোম্বে হাইকোর্ট এই মামলার অভিযুক্তদের খালাস করে দেওয়ার পর রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের খালাসের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষ মকোকা (MCOCA) আদালত ১৩ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ১ জন খালাস পান। রাজ্য সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন নিয়ে এবং দোষীরা সাজার বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আপিল করে। হাইকোর্ট তার ৬৬৭ পাতার কড়া পর্যবেক্ষণে এটিএস (ATS)-এর তদন্ত নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে এবং অভিযুক্তদের নির্দোষ বলে খালাস করে দেয়। তবে বিচার চলাকালীন করোনা মহামারীর সময়ে ১ জন অভিযুক্তের জেলেই মৃত্যু হয়।
রাজ্য সরকার এই খালাসের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলে, শীর্ষ আদালত কেবল এটুকুই জানায় যে হাইকোর্টের এই রায় অন্য কোনো মামলার ক্ষেত্রে উদাহরণ (precedent) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে অভিযুক্তদের নির্দোষ প্রমাণ ও খালাসের সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।
তৎকালীন এটিএস প্রধান কে পি রঘুবংশীর অধীনে তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, নিষিদ্ধ সংগঠন 'সিমি' (SIMI)-র সহায়তায় পাকিস্তানের 'লস্কর-ই-তৈবা' এই হামলা চালিয়েছিল। প্রেসার কুকারে বোমা রেখে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরায় রাখা হয়েছিল।
২০০৮ সালে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দিল্লি ও আহমেদাবাদ বিস্ফোরণের অভিযোগে ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের সাদিক শেখকে গ্রেপ্তার করে। সাদিক দাবি করে, ২০০৫ সালের পর থেকে দেশের সব বড় বিস্ফোরণ এবং এই ৭/১১ ট্রেন বিস্ফোরণও তাদের সংগঠনই ঘটিয়েছে।
২০১৩ সালে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসিন ভাটকলও দাবি করে যে, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতে তাদের সংগঠনই এই ট্রেন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তবে এটিএস প্রমাণের অভাবে এই তত্ত্বগুলি খারিজ করে দেয়, যা পরবর্তীতে হাইকোর্টে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

