হট টপিক
শিক্ষককে বহিষ্কারের প্রতিবাদে শিক্ষকদের আটকে রাখলেন অভিভাবকরা
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, পানাগড়ঃ এক শিক্ষককে অনৈতিক ভাবে বহিষ্কার, নিয়মিত পঠনপাঠন না হওয়া-সহ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক-সহ সব শিক্ষকদের আটকে রাখলেন পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশ। মঙ্গলবার পানাগড়ের রামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যাপীঠের ঘটনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁকসা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে বিরাজকুমার মন্ডল শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। স্কুলের বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে তিনি প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। এবারও বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ায় তাঁকে প্রথমে শোকজ করা হয়। সেই নিয়েই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অভিভাবকদের একাংশ। কিন্তু তারপরেও তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয়। কেন এভাবে বহিষ্কার করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিভাবকরা।
এ দিন দুপুরে স্কুল ছুটির আগে থেকেই জমায়েত হচ্ছিলেন অভিভাবকদের একাংশ। অভিভাবক সুজিত সরকার, বিপুল দাসদের অভিযোগ, ওনাকে বরখাস্ত করা নিয়ে বিডিও অফিস সহ নানা জায়গায় লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কেন ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। বিরাজবাবু বলেন, আমি প্রথম থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি। অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করেছি। এমনকি এই কাজের জন্য ‘পিঠের ছাল তুলে নেওয়া হবে’ বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমাকে শোকজ করা হলে উকিল তার জবাব দিয়েছে। এবার বরখাস্ত করা হয়েছে। টিচার রুটিনে আমার নামের জায়গায় সাদা কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ২০১৩ সাল থেকে দুর্নীতির প্রতিবাদ করছি। তখন টেন্ডার ছাড়াই জিনিস কেনা হত। ২০১৮-১৯ সালে সেই দুর্নীতি বাড়ে। সেই সময় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি জানান, কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে পড়াতে এলে আগে নিয়ম ছিল দুবছর কন্ট্রাক্টচুয়াল থাকবে তারপর পার্মানেন্ট হবে। কিন্তু সেই নিয়ম মানা না হওয়ায় প্রতিবাদ করি। তারপরেই আমাকে শোকজ করা হয়।
এদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে। কিন্তু কয়েকজন ব্যক্তির জন্য সেই সুনামে প্রভাব পড়ছে। অনেকেই বিদ্যালয়ে বসেই জমির দালালি করছেন। নিজের মতো করে কমিটি করছেন। বিদ্যালয়ে বসে জমির দালালি কেন করা হবে? অতিদ্রুত পুরনো কমিটিকে সরিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার ঘোষকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত রয়েছি।

