কাটারি দিয়ে জামাইকে কোপাল শ্বশুর, তমলুকে হাড়হিম করা ঘটনা
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দিনের পর দিন নিজের মেয়ের ওপর জামাইয়ের নৃশংস অত্যাচার ও মারধর সহ্য করতে না পেরে, শেষমেশ কাটারি দিয়ে জামাইকে এলোপাথাড়ি কোপালেন শ্বশুর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার রাধিকাপুর এলাকার এই হাড়হিম করা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই জামাই অত্যন্ত নেশাগ্রস্ত এবং প্রায় প্রতিদিন নেশা করে স্ত্রীর ওপর চরম নির্যাতন চালাত। শত বারণ সত্ত্বেও সে নিজের অভ্যাস বদলায়নি। অভিযোগ, শনিবার রাতে জোর করে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করার চেষ্টা করে সে। স্ত্রী টাকা দিতে অস্বীকার করায়, রাগের মাথায় তাঁর মুখে বালি চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা চালায় ওই যুবক। মেয়ের আর্তনাদ শুনে শাশুড়ি বাঁচাতে এলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।শনিবার রাতের এই নৃশংসতার পর, রবিবার সকালেও ফের ওই যুবক তার স্ত্রী ও পরিবারের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে।
দিনের পর দিন মেয়ের এই অমানুষিক কষ্ট ও চোখের জল সহ্য করতে না পেরে শেষপর্যন্ত ধৈর্য হারান শ্বশুর। রবিবার সকালে রাগের মাথায় ঘর থেকে ধারালো কাটারি বের করে জামাইয়ের ওপর চড়াও হন তিনি এবং তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় জামাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে তমলুক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত জামাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে। শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

