টোটোর দাপটে নাজেহাল বর্ধমান, জ্যামে আটকাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সও
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সারা বছর টোটোর দাপটে কার্যত অবরুদ্ধ পূর্ব বর্ধমানের জেলা সদর। শহরের খোসবাগান, পার্কাস রোড কিংবা স্টেশন রোড— সর্বত্রই এখন এক ছবি। ট্রাফিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যত্রতত্র টোটো চলাচলের জেরে প্রতিদিন তীব্র যানজটের শিকার হতে হচ্ছে শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের। অভিযোগ, প্রশাসনের বারংবার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও চালকদের একাংশের মানসিকতায় কোনো বদল আসেনি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়ম মেনে চালকরা টোটো চালালে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যেত। কিন্তু বর্তমানে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার দফারফা করে ছেড়েছে এই তিন চাকার গাড়িগুলি। বহু টোটো চালকই ট্রাফিক সিগন্যালের কোনো তোয়াক্কা করেন না। এমনকি ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে কানে ফোন গুঁজে, বেপরোয়া গতিতে টোটো নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁদের। ফলে পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে টোটোর সওয়ারি— সবার সুরক্ষাই এখন বিশ বাঁও জলে। যাত্রী সুরক্ষার ন্যূনতম কোনো বালাই নেই এই গাড়িগুলিতে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শহরের চিকিৎসাকেন্দ্র বলে পরিচিত খোসবাগান এলাকা। সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির সামনে দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে টোটো। এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের জেরে প্রায়শই মুমূর্ষু রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সও রাস্তায় আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে রোগীর জীবন নিয়ে টানাটানি তৈরি হচ্ছে। বর্ধমান পুরসভা ও জেলা ট্রাফিক পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযানে নামলেও, পরিস্থিতি যে কে সেই। শহরবাসীর স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে রুট ভাগ করে টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করলে আগামী দিনে বর্ধমান শহর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।

