সর্বশেষ খবর
সৎ বাবার হাতে লাগাতার ধর্ষণের শিকার কিশোরী, আড়াল করার অভিযোগে মা-ও গ্রেফতার
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁয় সামনে এল আরও এক মর্মান্তিক ও পাশবিক ঘটনা। নিজের নাবালিকা মেয়েকে দিনের পর দিন ধরে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল সৎ বাবার বিরুদ্ধে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মেয়ের ওপর চলা এই চরম অত্যাচার ও নৃশংসতার কথা সব জেনেও পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার এবং আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন খোদ জন্মদাত্রী মা। অবশেষে সমস্ত ভয়ভীতি কাটিয়ে ওই কিশোরী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই সোমবার অভিযুক্ত সৎ বাবা এবং নির্যাতিতার মাকে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা বনগাঁ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর বাসিন্দা ওই কিশোরীর ওপর গত বেশ কিছু সময় ধরে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিল তার সৎ বাবা। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে এবং নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। লোকলজ্জা এবং আরও বড় বিপদের আশঙ্কায় প্রথমে মুখ না খুললেও, অত্যাচারের মাত্রা সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কিশোরীটি শেষমেশ তার মাকে পুরো বিষয়টি জানায়। কিন্তু অভিযোগ, মায়ের কাছ থেকে সান্ত্বনা বা সাহায্য পাওয়ার পরিবর্তে উল্টে চরম উদাসীনতা ও হুমকির মুখে পড়তে হয় তাকে। নিজের স্বামীর কুকীর্তি আড়াল করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে নির্যাতিতার মা মেয়েটিকে চুপ থাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু জানালে পরিণতি অত্যন্ত ভয়ানক হবে বলেও মেয়েকে শাসানো হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
কিন্তু সৎ বাবার এই পৈশাচিক অত্যাচার দিনের পর দিন চলতে থাকায় অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে ওই নাবালিকার। সমস্ত সামাজিক জড়তা এবং মায়ের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সে সরাসরি বনগাঁ থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয় এবং নিজের সৎ বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কিশোরীর মুখ থেকে এই ভয়ঙ্কর অত্যাচারের বিবরণ শুনে আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি তদন্তকারী আধিকারিকেরা। অভিযোগ পাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সৎ বাবা এবং তথ্য গোপন ও অপরাধে মদত দেওয়ার অপরাধে নির্যাতিতার মাকে গ্রেফতার করে।
সোমবার সকালেই ধৃত দুজনকে কড়া পুলিশি পাহারায় বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার গভীরে গিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, নির্যাতিতা নাবালিকা কিশোরীটির শারীরিক পরীক্ষা এবং জবানবন্দি নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। বারুইপুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বনগাঁর এই ঘটনায় নারী নিরাপত্তা এবং পারিবারিক কাঠামোর অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খোদ জন্মদাত্রী মা কীভাবে স্বামীর এমন অপরাধকে দিনের পর দিন প্রশ্রয় দিতে পারেন, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয় প্রতিবেশীরা। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

