সমুদ্রে শাড়ি-সালোয়ার পরে স্নানে ‘না’, সৈকতে নিষিদ্ধ মদ-তামাক! পর্যটকদের সুরক্ষায় নয়া গাইডলাইন দীঘায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, দীঘা: বাঙালির অন্যতম প্রিয় উইকএন্ড ডেস্টিনেশন দীঘায় পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার একগুচ্ছ কড়া নিয়ম জারি করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে মাঝেমধ্যেই যে সমস্ত অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা ঘটে, তা রুখতেই মূলত এই নয়া গাইডলাইনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এবার থেকে দীঘার সমুদ্রে শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজের মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে স্নান করার ক্ষেত্রে রাশ টানতে চাইছে প্রশাসন। এর পাশাপাশি সমুদ্র সৈকত বা বিচ চত্বরে মদ ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। শনিবার দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সরকারের এই ভাবনার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রতি সপ্তাহান্তেই দীঘার সৈকতে উপচে পড়ে হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু অসাবধানতার কারণে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে প্রায়শই তলিয়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, অনেক পর্যটক, বিশেষত মহিলারা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। এই ধরণের ভারী পোশাক জলে ভিজে গেলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয় এবং তা ঢেউয়ের টানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। সেই কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, সমুদ্রে স্নানের সময় যেন সুইমসুট বা সমুদ্রস্নানের উপযোগী হালকা পোশাক ব্যবহার করা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শাড়ি বা সালোয়ার পরে সমুদ্রে নামার ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’ জারি করা হচ্ছে না, এটি মূলত পর্যটকদের প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যে একটি সুরক্ষামূলক সতর্কবার্তা ও গাইডলাইন।পোশাক সংক্রান্ত পরামর্শের পাশাপাশি সৈকতের পরিবেশ ও সুস্থতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছেন মন্ত্রী। দীঘার বিচে বসে যত্রতত্র মদ্যপান কিংবা গুটখা, সিগারেটসহ অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবনের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। সমুদ্রের জল ও বালি যাতে দূষিত না হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। নবান্নের সবুজ সংকেত মিললেই স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ (DSDA) এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে রূপায়ণ করতে মাঠে নামবে এবং বিচে নজরদারি বাড়াতে বিশেষ পুলিশ মোতায়েন করা হবে

