সর্বশেষ খবর
আট মাসেই ধূলিসাৎ সেতু, ক্ষুব্ধ শুভেন্দু
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বয়স মাত্র আট মাস। তাতেই বর্ষার প্রথম ভারী বৃষ্টিতে তাসের ঘরের মতো ভেসে গেল পাহাড়ের অন্যতম লাইফলাইন দুধিয়া সেতু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি এই সেতুটি ভেঙে যাওয়ার ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি এই সেতু নির্মাণে কোনও ‘কাটমানি’ বা বড় আর্থিক দুর্নীতি জড়িয়ে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাত থেকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে, বিশেষ করে কার্শিয়ং ও শিলিগুড়ি এলাকায় রেকর্ড ২৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর জেরে পাহাড়ি নদী বালাসনের জলস্তর আচমকা ফুঁসে ওঠে। নদীর সেই ভয়ঙ্কর তীব্র স্রোতের চাপ সামলাতে না পেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে দুধিয়ার এই হিউম পাইপ সেতুটি। বর্ষার শুরুতেই এমন বিপর্যয়ে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধাক্কা খাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাত্র কয়েক মাসের আয়ুর এই সেতুর গাঠনিক গুণগত মান আদেও ঠিক ছিল তো?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সন্দেহকে আরও উস্কে দিয়ে বলেন, “পাহাড়ি নদীর স্রোত অনেক বেশি থাকে তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একটা গোটা সেতু জলের তোড়ে স্রেফ মুছে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি স্পষ্ট জানান, আগের সরকারের আমলে এই সেতু তৈরিতে কোনও রকম কারিগরি গলদ বা আর্থিক নয়ছয় ছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। তবে তদন্তের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে। পূর্ত দফতর (PWD) ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় একটি বিকল্প ডাইভারশন বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। আবহাওয়া নতুন করে খারাপ না হলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যাতায়াত ফের স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে দাবি নবান্নের।

