সর্বশেষ খবর
তৃণমূলের তহবিলে কাটমানি? তদন্তে সাইবার সেল
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরে রহস্য এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার পৌঁছাল থানা-পুলিশ পর্যন্ত। দলের তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং বেআইনি ‘কাটমানি’র অনুপ্রবেশ ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে সরাসরি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলেরই ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, অভিযোগকারী এই বিধায়কেরা সকলেই দলের হেভিওয়েট নেতা তথা ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের দাবিদার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ।
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে বিধায়কেরা দাবি করেছেন, দলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হতে পারে। তাই দলীয় তহবিলকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আর্থিক জালিয়াতি রুখতে অবিলম্বে তৃণমূলের তিনটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ ‘ফ্রিজ’ বা লেনদেন স্থগিত করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য হয়েছিল দিন দুয়েক আগে। নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অরূপবাবুর যুক্তি ছিল, দলে ব্যাপক ভাঙন ও বিদ্রোহ চলায় চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে তাঁর সই করা চেকের অপব্যবহার হতে পারে। সেই রেশ ধরেই এবার আসরে নামলেন ঋতব্রতপন্থী বিধায়কেরা।
অন্য দিকে, তৃণমূলের ‘কালীঘাট’ শিবির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন রটনা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, অরূপ বিশ্বাস এখন আর কোষাধ্যক্ষ নন, দলের নতুন কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শত শত কোটি টাকা গচ্ছিত থাকা দলীয় তহবিলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এই লড়াই শাসক শিবিরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল। সাইবার ক্রাইম পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

