খড়গপুর-মোরগ্রাম করিডরের জন্য জমি হস্তান্তর, গতি পেল প্রকল্প
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: খড়গপুর থেকে মোরগ্রাম পর্যন্ত প্রস্তাবিত ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পে গতি আনতে বৃহস্পতিবার আরও ৮৯.৮১৬৪ একর জমি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। এর ফলে জেলায় এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৫১.২২ একর জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হল।
জেলাশাসক আর. অর্জুন বর্ধমান পিআইইউ-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর গৌতম পালের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির কাগজপত্র তুলে দেন। এবার হস্তান্তর হওয়া ৮৯.৮১৬৪ একর জমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.০১ কিলোমিটার। এই নিয়ে জেলায় মোট ১৬.০১ কিলোমিটার রাস্তার জন্য জমি পেল এনএইচএআই।
এনএইচ-১১৬ নামে পরিচিত এই অর্থনৈতিক করিডরটি রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। খড়গপুর থেকে মোরগ্রাম পর্যন্ত মালবাহী গাড়ির যাতায়াতের সময় প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে দাবি করছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে।
ফ্রেইট করিডর হিসেবে তৈরি হওয়া এই রাস্তা খড়গপুর শিল্পাঞ্চল থেকে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য পরিবহণকে দ্রুত ও সাশ্রয়ী করবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা প্রশাসনের।
মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে দিয়ে এই জাতীয় সড়কের ৩৮.৮ কিলোমিটার অংশ যাবে। এর জন্য মোট ৫৮৬ একর জমি প্রয়োজন। জেলার চারটি ব্লক — বহরমপুর, নওদা, হরিহরপাড়া ও জলঙ্গির উপর দিয়ে এই রাস্তা যাবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৫১.২২ একর জমি হস্তান্তর হওয়ায় নির্মাণ কাজ শুরুর প্রাথমিক বাধা কাটল। বাকি জমি পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।
এই ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অর্থনৈতিক করিডর পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম — এই ছয় জেলার উপর দিয়ে যাবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে হলদিয়া বন্দর ও খড়গপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে মালদা, দিনাজপুর ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।
এনএইচএআই-এর আধিকারিক গৌতম পাল বলেন, “জমি পাওয়ার পরেই আমরা ডিপিআর অনুযায়ী কাজ শুরু করব। এই রাস্তা শুধু পরিবহণ নয়, সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক মানচিত্রও বদলে দেবে।”
জেলাশাসক আর. অর্জুন জানান, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ দেখে নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। বাকি জমিও দ্রুত হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।”
প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি জ্বালানি খরচও কমবে। ফলে পণ্যের দামে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

