সর্বশেষ খবর
মাছ ভাজার নামে মহিলাদের ডাক, দেগঙ্গায় তৃণমূল নেতাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ
প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার হাঁসিয়া এলাকার একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়িকে ঘিরে উঠে এল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ। দিনের বেলায় এলাকাটি সম্পূর্ণ নির্ঝুম ও শান্ত থাকলেও, সন্ধ্যা নামলেই সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করত। গভীর রাত পর্যন্ত চলত বিভিন্ন লোকের আনাগোনা ও মদের আসর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘মাছ কাটা’ কিংবা ‘মাছ ভাজা’র অজুহাত বা নাম করে ওই বাগানবাড়িতে প্রায়শই ডেকে পাঠানো হতো এলাকার মহিলাদের। আর এই সমস্ত অসামাজিক কার্যকলাপের মূল অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় দাপুটে তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম। সম্প্রতি সুনির্দিষ্ট একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের দাপটে এতদিন তটস্থ ছিল গোটা এলাকা। তবে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়তেই এখন গ্রামবাসীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আলি মণ্ডল এবং এমডি টনি বিশ্বাসের মতো ভুক্তভোগীদের দাবি, রবিউল আগে সাধারণ দিনমজুরের কাজ করতেন। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার পর জোরপূর্বক অন্যের দোফসলি জমি ও ভেড়ি দখল করে প্রায় ১১০ বিঘা সম্পত্তির মালিক হয়ে বসেন তিনি। কৃষকদের জমি দখল করে বেআইনিভাবে মাটি কেটে সেখানে এক বিশাল ঝিল বা জলাশয় বানানো হয় এবং তার পাশেই তৈরি হয় এই বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাগানবাড়ি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে এই বাড়িতেই চলত মদের আসর ও নানারকম অসামাজিক ফূর্তি। সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের কায়দাতেই জোর করে মহিলাদের ওপর চলত নানারকম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার, যার ভয়ে এতদিন কেউ টুঁ শব্দ করার সাহস পাননি।
রবিউল ইসলামের এই সাম্রাজ্যের হদিস মেলার পর থেকে হাঁসিয়ার ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনরোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত নেতার ভাইকে হাতের কাছে পেয়ে মারধরও করেন এবং নিজেদের বেদখল হওয়া জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। তোলাবাজি, উগ্র রাজনৈতিক হিংসা, জোর করে জমি দখল এবং মাছের ভেড়িতে লুটপাটের সুনির্দিষ্ট মামলায় গত সপ্তাহে বসিরহাট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। বারাসত আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জমি দখল এবং সরকারি টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি মহিলাদের আনাগোনার এই নতুন অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে কড়া আইনি তদন্ত চালানো হচ্ছে।

