তৃণমূলে প্রার্থী করার নামে ১৮ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রার্থী করার নামে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থার এক কর্মীর বিরুদ্ধে। শাসকদলের অন্দরে দলের পরামর্শদাতা সংস্থার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার সেই চাপা ক্ষোভ সরাসরি আইনি লড়াইয়ের রূপ নিল।
তৃণমূলের এক প্রাক্তন ব্লক সভাপতি খোদ পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ২ (বি) ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বরেন্দ্রনাথ মণ্ডল গত ৯ জুন গোয়ালতোড় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, আসন্ন ভোটে দলের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইপ্যাক (I-PAC) বা দলের পরামর্শদাতা সংস্থার এক কর্মী তাঁর কাছ থেকে মোট ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই কথামতো বরেন্দ্রনাথবাবু দুই কিস্তিতে মোট ১৮ লক্ষ টাকা ওই কর্মীকে প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে টিকিট না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়। দফায় দফায় চাপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত কর্মী ১১ লক্ষ টাকা ফেরত দিলেও, বাকি ৭ লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
প্রাক্তন ব্লক সভাপতির এই বিস্ফোরক অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়ালতোড় থানা নড়েচড়ে বসেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে খতিয়ে দেখে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। নতুন অপরাধ আইন বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র প্রতারণা (Cheating) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) সহ মোট তিনটি সুনির্দিষ্ট ধারায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার পেছনে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জেলা তথা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে।
পরামর্শদাতা সংস্থার অতি-সক্রিয়তা এবং প্রার্থী চয়নের ক্ষেত্রে তাঁদের একাধিপত্য নিয়ে দলের পুরোনো কর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ধিকধিক করে জ্বলছিল, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

