অবকাশ
বাইশে শ্রাবণ: বাঙালির আবেগ
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি এবং মননের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল তিনি। আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ)। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বাংলা সাহিত্যের এই প্রদীপ্ত সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো এবারও গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বিনম্র স্মরণে কবিগুরুকে স্মরণ করছে আপামোর বাঙালি।
১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোতে জন্ম নেওয়া এই মহাজীবন আশি বছরের দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ থেকে শুরু করে চিত্রকলা— সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় তাঁর সৃজনশীল হাতের ছোঁয়া আজও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ-বেদনার সঙ্গী। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম এশীয় হিসেবে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
চলতি বছর কবিগুরুর এই প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে কলকাতা, শান্তিনিকেতনসহ রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্রসদনে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও বিধি মেনে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং তাঁর সৃষ্টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।
একইভাবে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও ঐতিহ্যবাহী উপাসনা ও ‘বৃক্ষরোপণ’ উৎসবের মধ্য দিয়ে গভীর ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিনটি পালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ভার্চুয়াল ও সরাসরি মাধ্যমে বিশেষ স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।
বাঙালির জীবনের এমন কোনো অনুভূতি নেই, যা রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে বা কবিতায় প্রকাশ করেননি। তাঁর লেখা গান আজ দুটি স্বাধীন দেশের জাতীয় সঙ্গীত (ভারত ও বাংলাদেশ)। আট দশক পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্র-সৃষ্টির প্রাসঙ্গিকতা আজও এতটুকু ম্লান হয়নি, বরং বর্তমানের জটিল সময়ে তাঁর মানবিকতাবাদী দর্শন ও লেখনী মানুষকে নতুন করে পথ দেখাচ্ছে। প্রয়াণ দিবসের এই পুণ্যলগ্নে বাঙালি সমাজ আজ আরও একবার তাঁর অমর সৃষ্টির কাছে নতজানু হয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।

