জীবনযাপন
কিডনি সুস্থ রাখার সুবর্ণ নিয়ম: আজই বদলে ফেলুন এই কয়েকটি অভ্যাস
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদনঃ মানবদেহের অন্যতম প্রধান ছাঁকনি বা ফিল্টার হলো কিডনি। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে। বর্তমান যুগে অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে কিছু সহজ অভ্যাস বজায় রাখলে আজীবন কিডনি ভালো রাখা সম্ভব।
কিডনি সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের নির্দেশিত প্রধান কয়েকটি উপায় হল -
• পরিমিত জল পান করুন: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা কিডনির জন্য সবচেয়ে জরুরি। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) জল পান করা উচিত। এটি কিডনি থেকে সোডিয়াম ও ক্ষতিকর ইউরিয়া ফ্লাশ বা বের করে দিতে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে একবারে অতিরিক্ত জল পান না করে সারাদিন ধরে পরিমিতভাবে পান করুন।
• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার হলো কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তচাপ বেশি থাকলে তা কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে ও ক্ষতিসাধন করে। তাই রক্তচাপ সবসময় ১২০/৮০ mmHg-এর কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন।
• ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত থাকলে কিডনির ফিল্টার করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করুন এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
• লবণের ব্যবহার কমান: খাবারে অতিরিক্ত নুন বা সোডিয়াম খাওয়া কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণ ২,৩০০ মিলিগ্রামের নিচে রাখা উচিত। তাই পাতে কাঁচা নুন খাওয়া এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা ফাস্টফুড (যেমন চিপস, সস, ক্যানড ফুড) খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করুন।
• ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers) এড়িয়ে চলুন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ বা 'NSAIDs' (যেমন ইবুপ্রোফেন, ডিক্লোফেনাক, ন্যাপরোক্সেন) খাওয়ার অভ্যাস কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। এগুলি নিয়মিত খেলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হতে পারে।
• ধূমপান বর্জন ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: ধূমপান করার ফলে কিডনিতে রক্ত সঞ্চালনের গতি ধীর হয়ে যায়, যা এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং কিডনি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা সরাসরি কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
• নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: যাদের পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে, কিংবা যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বছরে অন্তত একবার ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিন টেস্ট করানো উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় কিডনির সমস্যা ধরা পড়লে তা চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই নিরাময় সম্ভব।

