বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের
নিজস্ব প্রতিনিধি: ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিল সেলেসাওরা। এই হারের ফলে আরও একবার ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে নকআউট পর্বের জুজু বা 'অভিশাপ' কাটাতে ব্যর্থ হলেন ভিনিসিয়ুস-নেইমাররা। মূলত নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের একক নৈপুণ্য এবং জোড়া গোলের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হলো কার্লো আনচেলত্তির ছেলেদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের খেলায় চেনা ছন্দের অভাব ছিল। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সুযোগ তৈরি করলেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় বারবার গোল নষ্ট হয়। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে সুযোগ হাতছাড়া করেন ব্রুনো গিমারাইস। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ডের দুর্দান্ত কিছু সেভ ব্রাজিলের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ সচল করতে ৬৭ মিনিটে চোট কাটিয়ে দলে ফেরা নেইমার জুনিয়রকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি, তবে ঢিলেঢালা রক্ষণভাগের কারণে সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি।হালান্ড ঝড় ও নেইমারের সান্ত্বনার গোলম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার হেডে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। এরপর ৮৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমে) পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার। তবে তা কেবল সান্ত্বনার গোল হিসেবেই রয়ে যায়।
দীর্ঘায়িত হলো ২৪ বছরের ট্রফির খরা। ২০০২ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জেতার পর দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গেলেও ট্রফি আর ব্রাজিলে ফেরেনি। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই শেষ ষোলো থেকে ছিটকে গেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে মাঠের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় নেইমারকে। অন্যদিকে, ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করল নরওয়ে।

