রাজ্য
বেঙ্গালুরুতে ধরপাকড়ের জের, সুন্দরবনে এসে পুলিশের জালে একই পরিবারের ১০ বাংলাদেশি
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়দিঘি: বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু হতেই রাতের অন্ধকারে ডেরা ছেড়েছিল পরিবারটি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে এসে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন একই পরিবারের ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, চারজন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা সকলেই বাংলাদেশের পিরোজপুরের বাসিন্দা। কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়াই দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রায় ছয় বছর আগে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর কাজের সন্ধানে সোজা চলে যান কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। সেখানে একটি ডেরায় থেকে ভাঙরি বা স্ক্র্যাপ কুড়ানোর কাজ করতেন পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি বেঙ্গালুরু জুড়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই খবর পেয়েই গ্রেফতারির ভয়ে তড়িঘড়ি বেঙ্গালুরু ছাড়ে ওই পরিবার। ট্রেনে চড়ে এরাজ্যে ফিরে সুন্দরবনের রায়দিঘি এলাকায় আত্মগোপন করার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা।
বুধবার রায়দিঘি থানার অন্তর্গত গাববেড়িয়া এবং রানিঘাট চিলড্রেন পার্কের কাছাকাছি এলাকায় এই ১০ জনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে রায়দিঘি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কথাবার্তায় অসঙ্গতি থাকায় তাঁদের থানায় এনে জেরা করা হলে, ধৃতেরা স্বীকার করেন যে তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাঁদের কাছে ভারতে থাকার কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা নেই।
আইনি প্রক্রিয়া মেনে রায়দিঘি থানার পুলিশ ধৃতদের কলকাতার আনন্দপুরের হোল্ডিং সেন্টারে (ডিটেনশন ক্যাম্প) পাঠিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের কারণে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে শীঘ্রই এই ১০ জনকে সীমান্ত দিয়ে নিজেদের দেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানো হবে। এই ঘটনার পর সুন্দরবন ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে পুলিশি টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

