রাজ্য
কলকাতায় ফিরেই বিমানবন্দরে ‘চোর’ শুনলেন অভিষেক
প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার মামলায় বড়সড় নাটকীয় মোড়। একদিকে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তিন সপ্তাহের অর্থাৎ ২১ দিনের জন্য গ্রেপ্তারির মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা আইনি রক্ষাকবচ পেলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একই সাথে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে তাঁকে সশরীরে ভবানী ভবনে সিআইডি (CID) দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। আদালতের সেই ডেডলাইন মেনে দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি কাটছাঁট করে তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরেছেন তৃণমূল ‘সেনাপতি’। তবে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখতেই এক নজিরবিহীন ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো তাঁকে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দমদম বিমানবন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিমান থেকে নামার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা ছড়ায়। তিনি যখন টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই সেখানে উপস্থিত একদল মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে আচমকা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দর চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সাথে স্লোগানকারীদের তীব্র বচসা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিষেকের নিরাপত্তারক্ষী এবং বিমানবন্দর থানার পুলিশ কর্মীরা তড়িঘড়ি ঘেরাটোপ তৈরি করেন। চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে কোনওরকমে নিরাপত্তারক্ষীদের সহযোগিতায় তাঁকে গাড়িতে তুলে দিয়ে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। অভিষেকের আইনজীবী তথা প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে অভিষেকের ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে বিচারপতি কৌশিক চন্দ সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৬টার সময় তাঁকে ভবানী ভবনে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত অবশ্য অভিষেককে একটি বড় স্বস্তিও দিয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ বা ২১ দিন তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনো ‘কঠোর আইনি পদক্ষেপ’ (যেমন গ্রেপ্তার) নিতে পারবে না বলে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছেন বিচারপতি। তবে শর্ত একটাই— তাঁকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। পরবর্তীকালে যদি সিআইডি তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে চায়, তবে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
কী এই ‘সই জাল’ বিতর্ক?
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের একটি চিঠিতে তৃণমূল বিধায়কদের সই করাকে কেন্দ্র করে। দলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিধানসভা সেক্রেটারিয়েটে অভিযোগ করেন যে, সেই রেজোলিউশন কপিতে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই সই জাল করা হয়েছে। এরপরই বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশে এফআইআর দায়ের হয় এবং মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। এই মামলায় এর আগে সিআইডি কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয় এবং অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিআইডির পরপর তিনটি সমন এড়িয়ে যাওয়ার পর, অবশেষে আদালতের ডেডলাইন মেনে ভবানী ভবনের মুখোমুখি হচ্ছেন অভিষেক।

