আইএসএফ ছেড়ে এবার ঋত-তৃণমূলে আরাবুল?
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আরাবুল ইসলামের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হল জোরালো জল্পনা। সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে দেখা গেল সদ্য ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) ত্যাগী এই প্রভাবশালী নেতাকে। তার পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন আরাবুল?
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই দীর্ঘদিনের দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, দলের জন্য প্রাণপাত করলেও বারবার তাঁকে অপমানিত হতে হয়েছে। কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকীর দলে গিয়েও বেশিদিন স্বস্তিতে থাকতে পারলেন না ভাঙড়ের এই দাপুটে নেতা। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে আইএসএফের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার’ ও ‘একনায়কতন্ত্রের’ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার ঘোষণা করেন তিনি। ভাঙড় জুড়ে আইএসএফের ‘লুম্পেন বাহিনী’র অনাচারের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি।
দল ছাড়ার পরেই শনিবার রাতে ভাঙড়ে আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও বোমা মারা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার সরাসরি বিধানসভায় পৌঁছে যান আরাবুল। সেখানে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভাঙড়ে নিজের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করতেই পুরোনো শিবিরে ফেরার রাস্তা খুঁজছেন আরাবুল। তবে তিনি সরকারিভাবে তৃণমূলে ফিরবেন নাকি ঋতব্রতর হাত ধরে নতুন কোনো কৌশলে এগোবেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য জিইয়ে রেখেছেন খোদ ভাঙড়ের নেতা। যদিও এই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আরাবুল বা ঋতব্রত শিবিরের তরফ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের মুখে আরাবুলের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে যে নতুন হাওয়া বইয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

