রাজ্য
আবাস যোজনার কোটি টাকা আত্মসাৎ! পুলিশের জালে বাগদার তৃণমূল উপপ্রধান
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের নথি জালিয়াতি এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বাগদার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান উপপ্রধান অসিত মণ্ডল। একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে বাগদা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী এই জালিয়াতি? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগদার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রকৃত দুঃস্থ ও ঘর পাওয়ার যোগ্য মানুষদের নথিপত্র সংগ্রহ করতেন অভিযুক্ত উপপ্রধান। কিন্তু অভিযোগ, সেইসব নথি ব্যবহার করে উপভোক্তাদের অজান্তেই অন্য ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার সরকারি অনুদানের টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে তুলে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এভাবে বহু গরিব মানুষ পাকা ঘর পাওয়ার তালিকাভুক্ত হয়েও সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এই আবাসন দুর্নীতি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ জমছিল। বঞ্চিত উপভোক্তারা জানতে পারেন যে তাঁদের নামে টাকা এলেও তা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গেছে। এরপরই প্রতারিত বাসিন্দারা বাগদা থানার দ্বারস্থ হন। অসিত মণ্ডলের বিরুদ্ধে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে নামে পুলিশ এবং বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রভাবশালী এই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই জালিয়াতির অঙ্ক কয়েক লক্ষ নয়, বরং কোটি কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে।
উপপ্রধান অসিত মণ্ডলকে হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি কাদের নামে খোলা হয়েছিল এবং এই জালিয়াতির সাথে পঞ্চায়েতের আর কোনো আধিকারিক বা ব্যাঙ্ক কর্মী যুক্ত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পঞ্চায়েতের বর্তমান উপপ্রধানের এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে বাগদায় জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন মেনেই তদন্ত চলছে এবং সমস্ত অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

