রাজ্য
দিনে ‘সমাজসেবা’, রাতে ডাকাতি! গ্রেপ্তার তৃণমূলের উপপ্রধান
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বনগাঁ: দিনে তিনি শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা এবং পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। সমাজসেবক হিসেবেই এলাকায় পরিচিতি। কিন্তু রাতের অন্ধকার নামতেই খোলস বদলে হয়ে উঠতেন ডাকাত দলের সর্দার! উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় এমনই এক হাড়হিম করা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। বড়সড় ডাকাতির ছক বানচাল করে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূলের উপপ্রধান এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁ থানার পুলিশ বিশেষ অভিযানে নামে। একটি এলাকায় হানা দিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া পাঁচ দুষ্কৃতীকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পুলিশ অফিসারদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। তাদের সূত্র ধরেই পরে গ্রেপ্তার করা হয় মূল হোতা তথা স্থানীয় তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ও পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে। ধৃত বাকি সদস্যরাও এলাকায় ‘ঘাস-ফুল’ শিবিরের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধৃত উপপ্রধান এলাকায় দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দিনের বেলা নানা সামাজিক কাজ ও সমাজসেবায় তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যেত। কিন্তু আড়ালে যে তিনি এমন একটি সক্রিয় ডাকাত দল চালাচ্ছিলেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এরা এর আগেও কোনো বড় অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। শাসকদলের জনপ্রতিনিধির এই কীর্তিতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

